চীনে ভারতীয় সুতা রফতানি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৩ অর্থবছরে মোট সুতা রফতানির ১০ শতাংশ চীনে করে ভারত। ২০২৪ অর্থবছরে এ পরিমাণ ২১ শতাংশে পৌঁছেছে। ভারতীয় সুতার সাশ্রয়ী দাম ও চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে তুলা উৎপাদনে জবরদস্তিমূলক শ্রমের অভিযোগ ওঠায় আগামী ২০২৫ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর ডেক্কান ক্রনিকল।
ভারতে ২০২৪ অর্থবছরে সার্বিকভাবে তুলার সুতা রফতানি এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। দেশটি ২০২৩ অর্থবছরে মোট সুতা উৎপাদনের ১৯ শতাংশ রফতানি করেছিল। চলতি অর্থবছর তা ৩২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর বেশির ভাগই চীনে রফতানি করা হয়েছে।
জিনজিয়াং প্রদেশ চীনের তুলা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। সম্প্রতি সেখানে তুলা উৎপাদনে শ্রমিকদের জোর-জবরদস্তি করার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ফলে চীনের বাইরে থেকে সুতা আমদানি করতে হচ্ছে তাদের।
করোনা মহামারী নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত বছরের জানুয়ারি থেকে বৈশ্বিক অ্যাপারেল মার্কেটে (পোশাক খাত) জিনজিয়াংয়ে উৎপাদিত তুলার ব্যবহার বেড়ে গিয়েছিল। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাম্প্রতিক অভিযোগের কারণে জিনজিয়াংয়ের তুলার বাজার খারাপ সময় পার করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে সুতার আমদানি বেড়েছে। চীন ছাড়াও বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে ভারত ৬০ শতাংশ তুলার সুতা রফতানি করে থাকে।
এদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ তুলার দাম ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্থে এসে তা কমে যায়। ভারতের ইনভেস্টমেন্ট ইনফরমেশন অ্যান্ড ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির (আইসিআরএ) তথ্যমতে, স্থানীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছর তুলার দাম গত বছরের গড় দামের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তুলা রোপণের পরিমাণ কমায় চলতি বছর তুলা উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে গত বছরে সমাপনী মজুদ এ বছরের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। ফলে চলতি বছরের তুলার বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত অর্থবছর সামগ্রিক তুলার সুতার উৎপাদন ৯ শতাংশ বেশি হয়েছিল। তবে চাহিদা কম থাকায় এর ৭০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। ফলে অবশিষ্ট তুলা সমাপনী মজুদ বাড়াতে সাহায্য করেছে।











