কোম্পানির অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আয়ের ক্ষেত্রে ওয়াল স্ট্রিটের লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ভিসা। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম পেমেন্ট প্রসেসর প্রতিষ্ঠানের জন্য একে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোক্তা ব্যয়ের সংকোচনের প্রভাব পড়েছে ভিসার আয়ে। আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। খবর রয়টার্স।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ কারণে বেশ কয়েক প্রান্তিক ধরে সুদহার সর্বোচ্চ স্তরে স্থির রয়েছে। সব মিলিয়ে নিম্ন আয়ের মার্কিন ভোক্তাদের বাজেটের ওপর পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।
ভিসার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ক্রিস সুউ বলেছেন, ‘বেশি ব্যয় করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে এমন ভোক্তা বৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী প্রান্তিকগুলোর তুলনায় স্থিতিশীল থাকলেও নিম্ন ব্যয়ের ভোক্তা বৃদ্ধিতে কিছুটা কমতি লক্ষ করা গেছে।’
ভিসার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রেডিট কার্ড জায়ান্ট আমেরিকান এক্সপ্রেসও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। গত সপ্তাহে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় কোম্পানিটি।
পুঁজিবাজারে ভিসার শেয়ারদর পতন সম্পর্কে রানিং পয়েন্ট ক্যাপিটাল অ্যাডভাইজারসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মাইকেল অ্যাশলি শুলম্যান বলেন, ‘মার্চে ভিসার শেয়ারদর বেশি ছিল। কিন্তু তার পর থেকে বেকারত্ব, পেমেন্ট ও ঋণের দায়বদ্ধতা এবং ভোক্তাদের খরচযোগ্য আয়ের অব্যাহত উদ্বেগে শেয়ারদর কমেছে।’
ফেড যদি সুদহার কমিয়ে আনে, তবে ব্যবসা ও ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে ভিসার আয়ে, এ তথ্যও দেন তিনি।
সর্বশেষ প্রান্তিকে ভিসা নিট আয় করে ৮৯০ কোটি ডলার, যা পূর্বাভাসের ৮৯২ কোটি ডলারের তুলনায় কিছুটা কম। ২০২০ সালের পর এটিই ছিল ভিসার এমন ঘাটতির প্রথম ঘটনা।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চীনের মূল ভূখণ্ডে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পেমেন্ট বৃদ্ধির হার কমে গেছে। এ অঞ্চলে কভিড-১৯ পরবর্তী ভ্রমণ পুনরুদ্ধার হলেও ভিসার প্রবৃদ্ধিতে শ্লথ দেখা যায়।
স্থিতিশীল ডলারের ভিত্তিতে ভিসার পেমেন্টের সংখ্যা এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ লেনদেন বাদ দিয়ে আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট বেড়েছে ১৪ শতাংশ। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ভিসা আশা করছে, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া চতুর্থ প্রান্তিকের জন্য নিট আয় বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের ওপরে থাকবে। তবে ২০২৩ সালের একই সময়ে নিট আয় বাড়ে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ হারে।















