তিন সপ্তাহ লকডাউনের কারণে ভারতজুড়ে মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে রয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এ অবস্থার মধ্যে দাম বাড়তে শুরু করেছে বাসমতি চালের। এক মাসের কম সময়ের ব্যবধানে ভারতের বাজারে সুগন্ধি এ চালের দাম ৫ শতাংশ বেড়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইকোনমিক টাইমস।
ভারতে উৎপাদিত বাসমতি চালের বড় একটি অংশ রফতানি হয়। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর জন্য আরোপ করা ২১ দিনের লকডাউনে দেশটি থেকে বাসমতি চাল রফতানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে খাদ্যপণ্যটির মজুদ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাড়তি মজুদের জের ধরে দাম কমার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র।
মুম্বাইভিত্তিক চাল রফতানিকারক দেবেন্দ্র ভোরা জানান, বর্তমানে ক্রেতাদের পছন্দের পুসা জাতের বাসমতি চাল কেজিপ্রতি ৬৫ রুপিতে (ভারতীয় মুদ্রা) বিক্রি হচ্ছে। গত ১৫ মার্চের তুলনায় খাদ্যপণ্যটির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা বেড়েছে।
মূলত রফতানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে এলেও দেশের বাজারে বাড়তি চাহিদা বাসমতি চালের দাম বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকটে লোড-আনলোড ব্যাহত হওয়ায় মিলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বাসমতি চাল সরবরাহ করতে পারছে না। খাদ্যপণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে এটাও বড় একটি কারণ।
ভারত থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বাসমতি চাল রফতানি হয়। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকায় আগে থেকেই খাদ্যপণ্যটি রফতানি নিয়ে চাপের মুখে ছিলেন ভারতীয় রফতানিকারকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশই নভেল করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় শুরুর দিকে রয়েছে। এতে ভারতীয় বাসমতি চাল রফতানিকারকদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
দেবেন্দ্র ভোরা বলেন, মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে বাসমতি চাল রফতানি গতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এজন্য আমাদের (ভারতীয় রফতানিকারকদের) এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে।









