আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে মানি মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেটের বিরাট অবদান রয়েছে। অর্থনীতিকে সচল রাখতে এদের ভূমিকা অগ্রগণ্য এবং এ দুটি যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। আমাদের দেশে মানি মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেটের আকার অনেক বেড়েছে।’

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত ক্যাপিটাল মার্কেট ফর সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহ-২০২৩ উপলক্ষে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তুলে ধরে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আমাদের অর্থনীতির আকার প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। একই সময়ে বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১২ গুণ। ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি, তখন দেশের বার্ষিক বাজেট ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা। আর এখন বার্ষিক বাজেট এসে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকার ওপরে। ২০০৬ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৫০৭ ডলার, যা ২০০৭ সালে ছিল ৬০০ ডলার। এখন তা ২ হাজার ৮৫৯ ডলার। যদি ডলারের ডিভ্যালুয়েশন না হতো তাহলে এটা ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেত।’

বিএমবিএ সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। সেমিনারে ক্যাপিটাল মার্কেট ফর সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমবিএ সেক্রেটারি জেনারেল মো. রিয়াদ মতিন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তা ইকুইটি লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের পরিচালক ইসতার মহল, ঢাবি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া।

এ সময় অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘মানি ও ক্যাপিটাল মার্কেটকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। সেটার জন্য আমাদের দেশী বিনিয়োগ হয়তো ৪৫০ বিলিয়নের মতো সম্ভব হবে, বাকিটা বাইরে থেকে আনতে হবে। এ দুইটার জন্য এখন আমাদের দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ দরকার। এর জন্য আমাদের বিনিয়োগ ফ্রেন্ডলি ডেভেলপমেন্ট করা দরকার এবং বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে সব ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক ভালো করেছে। যদিও কিছু সময় আপস অ্যান্ড ডাউনসের মুখোমুখি হতে হয়েছে।