নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদায়ও মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। এ কারণে এশিয়ার বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যটির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম আরো কমে গেছে। খবর রয়টার্স।
সর্বশেষ সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় জুনে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (প্রতি ঘনফুটে ১ হাজার ৩৬ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) এলএনজির গড় দাম ছিল ২ ডলার ৩০ সেন্ট, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ সেন্ট কম। এছাড়া আগের বছরের জুনে সরবরাহ চুক্তিতে বিক্রি হওয়া এলএনজির তুলনায় বর্তমানে পণ্যটির দাম কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজির উদ্বৃত্ত সরবরাহ বজায় রয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর তা আরো খারাপ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপকহারে কমে গেছে ও পুরনো ক্রেতাদের অনেকেই ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। ফলে দামও ক্রমেই কমতে শুরু করেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে কিছু ক্রেতা দেশ ও প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি তাদের প্রাক-ক্রয়াদেশের এলএনজি পরিবাহী কার্গো সরবরাহ মুলতবি রাখার চেষ্টা করেছে। এ কারণে এলএনজির বাজার প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে চীন এর মধ্যেও এলএনজির কৌশলগত মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
চলতি সপ্তাহে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়ার ইচথিস প্লান্টের একটি কার্গো মে মাসের প্রথম দিকে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজি ২ ডলারের কমে বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে জুনের প্রথম দিকে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রুনাইয়ের একটি কোম্পানি প্রতি মিলিয়ন বিট্রিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজি বিক্রি করেছে ২ ডলার ৩০ সেন্টে। এ সময়ে সুইজারল্যান্ডের ভিত্তল কোম্পানিকেও কম দামে এলএনজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার টাঙ্গু এলএনজি প্লান্ট মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সরবরাহ চুত্তিতে পাঁচটি এলএনজিবাহী কার্গো বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে এলএনজির দাম রেকর্ড কমতির দিকে থাকায় চলতি সপ্তাহে কয়েকজন ক্রেতাকেও কার্গো খুঁজতে দেখা গেছে। এর মধ্যে তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি বোটাস মে থেকে জুনের মধ্যে সরবরাহ চুক্তিতে সাতটি এলএনজিবাহী কার্গো খুঁজতে দেখা গেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) মে সাসে সরবরাহ চুক্তিতে ক্রয়ের জন্য একটি কার্গো খুঁজছিল। এছাড়া জার্মানির একটি কোম্পানিকে চারটি ও চীনের শেনঝেন এনার্জি কোম্পানিকে একটি কার্গোর খোঁজ করতে দেখা গেছে।








