বিশ্বের প্রায় সব দেশে নভেল করোনাভাইরাসের আঘাত লেগেছে। বাদ যায়নি শ্রীলংকাও। মহামারী ও লকডাউনের কারণে বিভিন্ন দেশ পণ্য রফতানি সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দিতে শুরু করেছে। তবে এ তালিকায় যুক্ত হবে না শ্রীলংকা। দেশটির সরকার জানিয়েছে, আপাতত চা রফতানি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে শ্রীলংকা থেকে নারকেল ও প্রাকৃতিক রাবার রফতানিও অব্যাহত থাকবে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রেস নোটে এ কথা বলা হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন ও সিনহুয়া।
চা শ্রীলংকার অন্যতম রফতানি পণ্য। পানীয় পণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রতি বছর চায়ের মোট বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ১২ শতাংশের বেশি শ্রীলংকা একাই জোগান দেয়। এ পরিস্থিতিতে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে শ্রীলংকা রফতানি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে চায়ের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
শ্রীলংকার প্ল্যান্টেশন মন্ত্রী রমেশ পাথিরানার বরাতে সরকারি প্রেস নোটে বলা হয়েছে, রফতানি আয়ের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ আসে চা থেকে। তাই করোনা মহামারীর মধ্যেও পানীয় পণ্যটির রফতানি অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে নারকেল ও প্রাকৃতিক রাবার রফতানিও বন্ধ করা হবে না। মূলত অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মহামারী প্রতিরোধে এরই মধ্যে শ্রীলংকাজুড়ে কারফিউ চলছে। জরুরি সেবামূলক কাজে নিয়োজিত মানুষ ছাড়া সবার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যেও চা, নারকেল ও প্রাকৃতিক রাবার সরবরাহ, পরিবহর, নিলাম ও রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে দেশটির সরকারি প্রেস নোটে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গাইডলাইন মেনে চলতে হবে বলেও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শ্রীলংকা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধানত প্যাকেটজাত, টি ব্যাগ এবং বাল্ক টি—এই তিন ধরনের চা রফতানি হয়। দেশটি থেকে রফতানি হওয়া চায়ের প্রধান ক্রেতা ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং চীন। এর বাইরে রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে চা রফতানি করে দেশটি।









