জ্বালারি তেলের কৌশলগত মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ভারত। কভিড-১৯ প্রকোপে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া লকডাউনের কারণে দেশটির পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিশোধনাগারগুলোর উদ্বৃত্ত জ্বালানি তেল নিয়ে পণ্যটির কৌশলগত রাষ্ট্রীয় মজুদ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে ভারত সরকার। খবর রয়টার্স।

ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ লিমিটেডের (আইএসপিআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচপিএস হুজা সম্প্রতি জানিয়েছেন, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভারতে চলমান লকডাউনের জেরে দেশটির পরিবহন ও শিল্প খাতে জ্বালানি তেল ব্যবহারের হার কমে গেছে। ফলে পরিশোধনাগারগুলো পণ্যটির পরিশোধন কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে নিজেদের মজুদ সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ থাকায় বাড়তি জ্বালানি তেল নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে কোম্পানিগুলো। এ অবস্থায় পরিশোধনাগারগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল নিয়ে আগামী মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের (এসপিআর) স্পেসগুলো পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য দেশটিকে ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেলের মতো জ্বালানি তেল স্থানান্তর করতে হতে পারে।

ভারতের সরকারি সূত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশটি জ্বালানি পণ্যের ব্যবহার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার থেকে জ্বালানি তেল ক্রয় করছে। আগামী বর্ষার আগেই জ্বালানি পণ্যটির এসপিআর পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত মাসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে জ্বালানিটির ক্রয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম বর্তমানে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। এর সুযোগ নিতে আগ্রহী দেশটি।