এপ্রিল থেকে জুনে জাপানের অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। গত মার্চে কভিডজনিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর ভোক্তাব্যয় বেড়ে যাওয়াতেই এ প্রবৃদ্ধি দেখছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। খবর মাইনিচি।
এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে জাপানের প্রকৃত জিডিপি সমতল হারে প্রসারিত হয়েছিল।
এ নিয়ে টানা তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি বাড়ল। দেশটির কেবিনেট অফিসের প্রাথমিক তথ্যে এসব কথা জানানো হয়েছে।
জাপানের মোট জিডিপির অর্ধেকটা আসে ভোক্তাব্যয় থেকে। এ সময়ে সেটা বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। টানা তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়েছে সেটাও। গত মার্চে জাপানে কভিড-১৯ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর দেশজুড়ে বাইরে খেতে যাওয়া এবং ভ্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সংক্রমণের হার নিম্নগামী থাকায় একই রকমের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে টোকিও ও ওসাকাতেও।
মূলধন বিনিয়োগও দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদার আরেকটি মূল স্তম্ভ। সেটাও বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। তথ্য বলছে, যেটা আগের প্রান্তিকে সংকুচিত হয়েছিল শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
সর্বশেষ প্রান্তিকে মোট বার্ষিক প্রকৃত জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৫৪২ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (৪ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার)। করোনাভাইরাস মহামারী আঘাত হানার আগে ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে যেটা ছিল ৫৪০ ট্রিলিয়ন ইয়েন।
তৃতীয় প্রান্তিকেও প্রকৃত দেশজ উৎপাদন বাড়তির দিকে থাকা সত্ত্বেও কিছু অর্থনীতিবিদের মতে, মূল চিত্রটা এখনো ঝাপসা রয়ে গিয়েছে। কারণ কভিড-১৯-এর সংক্রমণ আবার বাড়তির দিকে রয়েছে এবং উচ্চ পণ্যমূল্যের কারণে ভোক্তারা ব্যয় কমিয়ে দিতে পারে।
মিজুহো রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সাইসুকে সাকাই অবশ্য দৃষ্টিপাত করেন আরেকটি বিষয়ের ওপর। তিনি বলেন, উল্লেখিত সময়ের জিডিপি এর পরও ২০১৯ সালের চারটি প্রান্তিকের জিডিপির তুলনায় কম ছিল। সেবারও ব্যক্তিগত খরচের ওপর ভোগ কর বৃদ্ধি করায় শেষ প্রান্তিকে ব্যক্তিগত খরচ অনেক কমে গিয়েছিল।
সাকাই আরো বলেন, যদিও জাপানের অর্থনীতির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তার পরও তারা পুনরুদ্ধারের মাত্র অর্ধেক পথ এসেছে। আবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও জনগণ বাইরে যাওয়া কমিয়ে দিতে পারে, তার ফলে কমে যেতে পারে ব্যক্তিগত খরচও।
দেশটির ব্যক্তিগত বিনিয়োগ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ যেটা আগের প্রান্তিকে কমেছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। পাশাপাশি আমদানি ও রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৯ ও শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।








