সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পণ্য আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৩৩ হাজার টনেরও বেশি। ভারতে পণ্যের চড়া দাম এবং ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, আমদানি কমার পাশাপাশি আমদানি মূল্যও অন্তত দেড় গুণ বেড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি হয় তার মধ্যে গম, ভুট্টা, চাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, খৈল, ভুসি, ফল ও বিভিন্ন প্রকার পাথর উল্লেখযোগ্য।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) এ বন্দর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার পণ্য আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৬ টন। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার ২০৬ টন এবং আগস্টে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮০ টন আমদানি হয়। এ দুই মাসে আমদানীকৃত পণ্যের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪০ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। গত অর্থবছরের একই সময় এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৯ টন। যার আমদানি মূল্য ছিল ৮৫৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পণ্য আমদানি কমেছে ৩৩ হাজার ৫০৩ টন। পাশাপাশি আমদানি মূল্য বেড়েছে ৪৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময় তার প্রতিষ্ঠানে পণ্য আমদানি যেমন কমেছে, তেমনি সব ধরনের পণ্যের আমদানি মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিনিময় মূল্য বাড়ার পাশাপাশি ভারতের বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম চড়া। দাম বেশি হওয়ায় আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্য এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রামকৃঞ্চ চক্রবর্তী জানান, তিনি বারো মাসই বিভিন্ন প্রকার পাথর ও ফল আমদানি করেন। তবে অসম প্রতিযোগিতার কারণে ফল আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে তার প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, ‘দেশের অন্য সব বন্দরে ফল আমদানিতে ব্যবসায়ীরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, ভোমরা বন্দরে তার কিছুই পান না। পার্শ্ববর্তী বেনাপোল বন্দরে প্রতি ট্রাক ফল আমদানিতে পচনশীল পণ্য হিসেবে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়। অথচ ভোমরা বন্দরে ফল আমদানিকারকদের কোনো ছাড় দেয়া হয় না। এ বৈষম্যের কারণেই ফল আমদানি করতে পারছি না।’
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু জানান, এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমে যাওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে না দেয়া। এছাড়া ডলারের বিনিময় মূল্য বাড়ার পাশাপাশি ভারতের বাজারে পণ্যের বাড়তি দামও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশের অন্য সব বন্দরের মতো সব ধরনের বৈধ পণ্য আমদানি করতে দেয়া হলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও অনেকাংশে বাড়বে বলে জানান তিনি।










