মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে প্রস্তুত বৈদ্যুতিক শিল্পনগরী। তবে উদ্যোক্তারা প্লট ক্রয় না করায় আলোর মুখ দেখছে না প্রকল্পটি। প্লট ক্রয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে দাম কমানোর দাবি উঠলেও বিসিক প্রধান কার্যালয়ের একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে তা সম্ভব হয়নি। বরং মূল্য কমানোর পরিবর্তে এবার উল্টো মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে শিল্পনগরীটি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগে ৭ শতাংশের একটি প্লটের মূল্য ৫৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও এবার ৭ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে প্লটের মূল্য ৬৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার নবাবপুর, ধোলাইখাল ও কামরাঙ্গীরচরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বৈদ্যুতিক পণ্য ও হালকা প্রকৌশল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট একটি জায়গায় স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ইলেকট্রনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলে সরকার। প্রায় সাত বছর আগে কাজ শুরু হওয়া শিল্পনগরী এখন কলকারখানা স্থাপনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। টঙ্গীবাড়ির ইছামতী নদীর তীরে এ শিল্পনগরী প্রস্তুত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজও শুরু হয়নি। গত এক বছর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, মাইকিং, ব্যানার ও লিফলেট বিতরণ করেও এখনো অধিকাংশ প্লট বিক্রিই হয়নি।
জানা গেছে, ঢাকার পোস্তগোলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে টঙ্গীবাড়ির বেতকা ইছামতী নদীর তীরে ৫০ একর জমির ওপর ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইলেকট্রনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। বালু ভরাটের মধ্য দিয়ে প্লট তৈরির কাজ শেষ হয়। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। রয়েছে ড্রেন, কালভার্ট, প্রশাসনিক ভবন, পুকুর ও ডাম্পিং ইয়ার্ড।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সূত্রে জানা যায়, এ শিল্পনগরীতে অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্পনগরীটি গড়ে তোলায় ব্যয় হয়েছে ৩১৭ কোটি টাকা। এতে বিদ্যুতের ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হাইভোল্টের সাবস্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি ৩৬১টি প্লট তৈরি করা হয়। একেকটি প্লট যথাক্রমে ৭, ১০ ও ১৪ শতাংশ আয়তনে। নির্মাণের পর এ শিল্পনগরীর প্লট বিক্রিতে প্রতি শতাংশের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা করে। এ হিসেবে ৭ শতাংশের একটি প্লটের মূল্য ছিল ৫৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
বিসিকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের মূল্যে হাতেগোনা কিছু প্লটের জন্য আবেদন জমা ছাড়া অবিক্রীত থেকে গেছে সব প্লটই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিকের মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ে একটি সূত্র জানায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তারা প্লট কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ বিসিক ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে মূল্য কমাতে চাইলেও প্রধান কার্যালয়ের একটি সিন্ডিকেট প্লটের মূল্য কমানোর বিরোধিতা করেছে। ফলে মূল্য কমানোর পরিবর্তে এবার প্লটপ্রতি আরো ৭ লাখ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ৭ শতাংশের একটি প্লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩ লাখ টাকার অধিক। এ পরিস্থিতিতে শিল্পোদ্যোক্তারা প্লট ক্রয়ে আগ্রহ দেখাবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
সম্প্রতি বৈদ্যুতিক শিল্পনগরীতে গিয়ে দেখা গেছে, কোনো প্লটেই বৈদ্যুতিক পণ্যের শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ শুরু হয়নি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা সেতু হয়ে সহজ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়াও এ শিল্পনগরী থেকে সড়ক পথে ঢাকা যেতে সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর হয়ে সময় লাগবে ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে রয়েছে সহজতর নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু প্লট বিক্রি না হওয়ায় সেখানে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এতে শিল্পনগরীটি কাশবনে ছেয়ে গেছে।
মুন্সিগঞ্জ বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (প্রকল্প পরিচালক) আবদুল জলিল তালুকদার জানান, বৈদ্যুতিক শিল্পনগরী কলকারখানা স্থাপনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। এ শিল্পনগরীতে সব ধরনের বৈদ্যুতিক পণ্য ও গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। আবার নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্লট বিক্রি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ বিসিকের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ জানান, এরই মধ্যে ২০টির মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্লট বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে। উদ্যোক্তারা বলছে প্লটের দাম বেশি। এছাড়া শিল্পনগরী থেকে ঢাকায় যেতে মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে উদ্যোক্তাদের প্লট নেয়ার আগ্রহ বাড়বে।










