যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি জানুয়ারিতে কিছুটা কমেছে। এ সময় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। মার্কিন শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক এ প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে ভোক্তা মূল্যসূচক ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের মাসে বেড়েছিল দশমিক ২ শতাংশ। এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। খবর এপি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোক্ত মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরের ৩ দশমিক ৪ শতাংশের চেয়ে কম ছিল জানুয়ারিতে। এছাড়া ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ উঠে আসে, যার চেয়ে অনেক কম। তবে এখনো ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে মূল্যস্ফীতি। এমন একসময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে হতাশা লক্ষ করা যাচ্ছে, যখন জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থিতার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন।

খাদ্য ও জ্বালানি খরচ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের প্রকৃত মূল্য গত মাসে দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে এবং ডিসেম্বরের দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেশি। বার্ষিক ভিত্তিতে প্রকৃত মূল্য জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, ডিসেম্বরেও একই হারে বাড়ে।

শ্রম বিভাগের এ প্রতিবেদনে দেখা যায় যে ব্যবহৃত গাড়ি, পেট্রল ও মুদির মতো পণ্য থেকে মূল্যস্ফীতির চালকগুলো থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। এসব পণ্যের দাম এখন কমছে বা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এছাড়া হোটেল রুম, রেস্তোরাঁর খাবার ও চিকিৎসার মতো পরিষেবাগুলোর দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। এ পরিবর্তন ফেডারেল রিজার্ভের জন্য উদ্বেগ বাড়াতে পারে, কারণ পরিষেবার মূল্যস্ফীতি সাধারণত স্বস্তিকর স্তরে পৌঁছতে বেশি সময় নেয়।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোমি পাওয়েল পরিষেবার দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‌নীতি সুদহার কমানো শুরু করার আগে পরিষেবার মূল্যস্ফীতি আরো কমাতে চান।’

এ বিষয়ে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফ্লেশন ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ওমর শরীফ বলেন, ‘‌আরো কিছুটা সময় মূল্যস্ফীতি পর্যবেক্ষণ করতে চায় ফেডারেল রিজার্ভ। এর পরই নীতি সুদহার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

সম্প্রতি মার্কিন অর্থনীতিতে মূল আলোচনায় পরিণত হয়েছে মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের সম্পর্ক। মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছলেও নীতি সুদহার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়। অথচ সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গাড়ি ব্যবসায়ী বা বাড়ির ক্রেতারা। তারা ভাবছেন, এ পরিস্থিতিতে সুদহার কমলে ভারী ঋণের বোঝা অনেকটাই হালকা হবে।

ধারণা করা হচ্ছিল, চলতি বছর কয়েক দফা নীতি সুদহার কমিয়ে আনবে ফেডারেল রিজার্ভ। কারণ ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে লক্ষ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির বার্ষিক বৃদ্ধি ছিল প্রায় ২ শতাংশ। কিন্তু চলতি সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এখনই সুদহারের লাগাম টেনে ধরতে প্রস্তুত নন তারা।