কর্মক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত অপ্রয়োজনীয় পোশাক স্থানীয় কারিগর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষ কর্মীদের হাতে পেয়ে কারুশিল্পের নতুন রূপ পাবে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান বাহ্ পুরোনো পোশাককে হস্তশিল্পের মাধ্যমে নতুন রূপ দিতে ‘বাহ্ এগেইন’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করেছে। একই সঙ্গে এই কার্যক্রম স্থানীয় দক্ষ কারিগর ও শিল্পীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এসব তথ্য জানায়।
গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাহ্ টেকসই নকশা ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ নিয়ে কাজ করছে। পাট, হোগলা পাতা ও বিভিন্ন উপজাত উপাদান ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক জীবনযাত্রার নানা পণ্য তৈরি করে আসছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই ভাবনাকে এবার পোশাকের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করছে তারা।
উদ্যোগটির অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংগ্রহ দিবস আয়োজন করা হবে। সেদিন কর্মীরা তাদের অব্যবহৃত পোশাক জমা দিতে পারবেন। পুরোনো জিনস, ছোট হয়ে যাওয়া শিশুদের পোশাক কিংবা দীর্ঘ দিন আলমারিতে পড়ে থাকা সুতি কাপড় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য; এমন সব পোশাক এই উদ্যোগে সংগ্রহ করা হবে।
সংগৃহীত পোশাক বাছাই করে নতুন পণ্য তৈরির উপযোগী কাপড় আলাদা করবে বাহ্। এরপর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নারী কারিগর, সাবেক পোশাককর্মী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং বিভিন্ন কারিগরের হাতে সেগুলো নতুন পণ্যে রূপ নেবে। এটি কোনো যন্ত্রচালিত পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া নয়।
পোশাকের সূক্ষ্ম আঁশ ভেঙে যন্ত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করার বদলে ব্যবহারযোগ্য পুরোনো কাপড়ের মূল উপাদান ও স্বকীয়তা যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে মানুষের দক্ষতা, নকশা ও কারুশিল্পের মাধ্যমে সেগুলোকে নতুন পণ্যে রূপ দেয়া হবে। পণ্যগুলো পর্যায়ক্রমে বিশেষ সংগ্রহের অংশ হবে। এর মাধ্যমে পুরোনো পোশাক ফেলে না দিয়ে নতুনভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় দক্ষ কারিগরদের জন্যও নিয়মিত কাজ ও আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মক্ষেত্রে টেকসই উদ্যোগ হিসেবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানে এই সংগ্রহ দিবসের আয়োজন করতে পারবে। এর মাধ্যমে কর্মীরা সহজেই তাদের পুরনো ও অপ্রয়োজনীয় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য পোশাক জমা দিয়ে অংশ নিতে পারবেন। সংগৃহীত পোশাক বাহ্ সংগ্রহ, বাছাই ও নতুনভাবে ব্যবহারের উপযোগিতা পরীক্ষা করবে।
প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, মূল্য পরিশোধিত ও প্রাকৃতিক ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতি মাসে দেশে ৩০ লাখের বেশি মানুষের কাছে তারা পৌঁছায়। ফলে এই উদ্যোগে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
উদ্যোগটি চারটি সহজ ধাপে পরিচালিত হবে। প্রথম ধাপে কর্মীরা তাদের পরিষ্কার ও অপ্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে আসবেন। দ্বিতীয় ধাপে বাহ্ সেসব পোশাক সংগ্রহ করে বাছাই করবে। তৃতীয় ধাপে উপযোগী কাপড় স্থানীয় কারিগর ও দক্ষ কর্মীদের হাতে নতুন পণ্যে রূপ নেবে। আর শেষ ধাপে অংশগ্রহণকারীরা পাবেন বিশেষ পুরষ্কার।
প্রাথমিক পর্যায়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ক্লাব, দূতাবাস, শিল্পগোষ্ঠী, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বাহ্।
উদ্যোগে অংশগ্রহণকে আরো উৎসাহিত করতে ২৫ শতাংশ ছাড়ের ভাউচারের পাশাপাশি সীমিত সংখ্যক টেকসই অংশীদারকে যুক্ত করছে বাহ্। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পিউরো, আসুস বাংলাদেশ, বেঙ্গল মিট, জাইস ভিশন সেন্টার বাই অপসিস, স্বধা, ট্যাপআউট ফিটনেস ঢাকা, তরকা ও ইয়নবাজারসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
এসব বিশেষ সুবিধা মূল পুরস্কারের অংশ হিসেবে থাকবে। ফলে উদ্যোগে অংশ নেয়ার পাশাপাশি কর্মীরা বিভিন্ন বাড়তি সুবিধা পাবেন এবং সচেতন জীবনযাত্রাকে প্রাধান্য দেয় এমন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
বাহ্-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মিরাজুল হক জানান, নতুন পণ্য তৈরির চর্চা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাহ্ এই বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার টন পোশাক ফেলে দেয়া হয়, যা বছরের পর বছর জমে থেকে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
তিনি আরো জানান, তাদের তৈরি হস্তশিল্প উদ্যোগের মাধ্যমে সচেতন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ উদ্যোগ শুধু বর্জ্য কমাতে সাহায্য করবে না, প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুযোগ সীমিত এমন দক্ষ কারিগরদের জন্য অর্থবহ ও নিয়মিত কাজের সুযোগও তৈরি করবে।
—বিজ্ঞপ্তি










