স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার পর বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতির বাজারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানের পথে আরো একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ‘ত্বরান্বিতে’ একটি বিশেষ বা অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির বরাত দিয়ে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেয়া এ সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা ও হংকং (চীন)।
আরসিইপি বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থনৈতিক জোট। চীনের নেতৃত্বাধীন বর্তমানে এ জোটের সদস্য সংখ্যা ১৫। বাকি সদস্য দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এ জোট বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। কভিডকালীন ২০২০ সালে ভিয়েতনামে স্বাক্ষর হয় এ বাণিজ্য চুক্তি।
যৌথ বিবৃতির বরাত দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এ মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং দেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে আরসিইপি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করা হয়।
এ সময় সদস্যপদ চেয়ে আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।
ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য শেন রেটি এ যৌথ বৈঠকে সহসভাপতিত্ব করেন।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যাওয়ার পর আরসিইপি জোটের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ বক্তব্যের ঠিক তিন মাস পর আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পথ কিছুটা হলেও এগিয়েছে।










