ডলার সংকট ও এলসি জটিলতার কারণে চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙা শিল্প প্রায় থমকে গিয়েছিল। তবে গত বছরের শেষ ছয় মাসের তুলনায় নতুন বছরের প্রথম চার মাসেই আমদানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে ৪ লাখ ৩২ হাজার ১৯৩ টন স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে। এর পরের চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৬৭ টন। অর্থাৎ প্রায় ১১ হাজার ১৭৪ টন বেশি। নতুন করে এলসি দেয়া ও সীমিত পরিসরে ডলার সরবরাহের কারণে বছরের প্রথম চার মাসে আমদানি কিছুটা বেড়েছে। এদিকে স্ক্র্যাপ জাহাজ সৈকতায়ন করার পরও ছাড়পত্র অনুমোদনে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের সময় ব্যাংকের সীমিত এলসি দেয়া ও ডলার সংকট ছিল। যার কারণে ছোট পরিসরে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করতে হয়েছে। অন্যদিকে নতুন পরিবেশ আইনের কারণে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানির পর ছাড়পত্র অনুমোদন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইনে জাহাজ ভাঙা শিল্পকে ‘লাল তালিকায়’ আনার কারণে এ জটিলতার সূচনা।
বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পের মালিকদের সংগঠনের (বিএসবিআরএ) তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছিল ৬৬টি। গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে ২০২২ সালে। মাত্র ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৪ টন। তবে এ বছর আমদানি বাড়বে বলে মনে করছে সংগঠনটি। এ বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে ৬৬টি।
ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে স্ক্র্যাপ জাহাজের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল। সংকট থাকলেও পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভালো। দেশের আর্থিক পরিস্থিতির সংকট ক্রমেই কাটতে শুরু করেছে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০২৩-এর কারণে জাহাজ ভাঙার অনুমোদন পেতে দেড় থেকে দুই মাস চলে যায়।
বিএসবিআরএর সরকারি সচিব নাজমূল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইয়ার্ডগুলো যখন অনুন্নত ছিল তখন জাহাজ ভাঙা শিল্প পরিবেশ অধিদপ্তরের কমলা শ্রেণীভুক্ত ছিল। নতুন আইনে এ শিল্পটিকে আবারো লাল শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে। অনেক অর্থ ব্যয় করে ইয়ার্ডগুলো গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। লাল শ্রেণী হওয়ায় অনেক ধরনের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অফিসের ছাড়পত্র অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা নেই। ঢাকা থেকে অনুমোদন আনতে হলে ১-২ মাস লেগে যাচ্ছে। এলসি করে এত দিন বসে থাকলে ব্যবসায়ীরা টিকতে পারবেন না। বিএসবিআরএর অধিভুক্ত ব্যবসায়ীরা বিষয়টি বাজেটের আগেই পরিত্রাণ চান।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জেলা) মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জাহাজ ভাঙা শিল্পটিকে লাল শ্রেণীতে ফিরিয়ে নেয়ায় স্ক্র্যাপ জাহাজ পরিদর্শনের বিষয়গুলো আগের মতোই থাকবে। অনেক বিষয়ের ছাড়পত্র ঢাকা থেকেই সংগ্রহ করতে হবে। পরিবেশ আইনে লাল তালিকায় অবস্থান করা মানে শিল্পটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। আইন অনুযায়ীই অনুমোদন নিতে হবে।’
বিএসবিআরএর মতে, জাহাজ ভাঙা শিল্পটিকে পুনরায় লাল তালিকায় ফিরিয়ে আনার আগে শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং প্রধান স্টেক হোল্ডার বিএসবিআরএর কোনো মতামত নেয়া হয়নি। যেহেতু এ শিল্পটি আন্তর্জাতিক ব্যবসার অধিভুক্ত, সেজন্য নতুন আইনের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএসবিআরএর সভাপতি আবু তাহের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম সবসময় ওঠানামা করে। যার কারণে এলসি খুলে ব্যবসায়ীরা এভাবে অপেক্ষা করতে পারেন না। এ জটিলতায় ব্যবসায়ীরা স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করতে ভয় পাচ্ছেন। বিভিন্ন ছাড়পত্র দেয়া যাতে দ্রুততার সঙ্গে করা হয়, সে বিষয়ে আমরা দাবি জানিয়েছি। এ শিল্পকে আবারো কমলা শ্রেণীতে ফিরিয়ে নেয়ারও দাবি জানাচ্ছি।’










