অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি এড়াতে নিজেদের ডিজিটাল অভ্যাস বদলেছেন ভারতের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষ। দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার মধ্যে এ পরিস্থিতি অনলাইন সেবার প্রতি মানুষের আস্থার ঘাটতি তুলে ধরেছে। গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএমএ) এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ১২ মাসে ভারতের প্রায় প্রতি আটজনের একজন অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের অনেকেই অভিযোগ জানানোর পরও সন্তোষজনক সমাধান পাননি। খবর বিজনেস টুডে।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের এক ফাঁকে এসব তথ্য তুলে ধরেন জিএসএমএর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান জুলিয়ান গোরম্যান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অনলাইন প্রতারণার ভয় ভারতের ডিজিটাল সেবার বিস্তারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফাইভজি ও ভবিষ্যতের সিক্সজি প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে চাইছে দেশটি।’

গোরম্যানের ভাষা, ভারতের ৭০-৭২ শতাংশ মানুষ অনলাইন প্রতারণা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যবহার সীমিত করছেন। ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ ও ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে এটি বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।

তার মতে, টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এখন ডিজিটাল সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করা। অনলাইন প্রতারণা শুধু সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষতি করে না, বরং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার জন্যও সমস্যা তৈরি করে।

মানুষ যদি অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য হারানোর ভয়ে অনলাইন সেবা ব্যবহার করতে না চান, তাহলে ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল সবার কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে। ফলে ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

স্যাটেলাইট হবে মোবাইল নেটওয়ার্কের সহায়ক

ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার বিস্তার নিয়েও কথা বলেন গোরম্যান। স্টারলিংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছে। তার মতে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

ভারতের ৯৮ শতাংশের বেশি মানুষের কাছে এরই মধ্যে প্রচলিত মোবাইল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। ফলে দুর্গম এলাকা বা গভীর সমুদ্রের মতো স্থানে যোগাযোগসেবা পৌঁছতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ভবিষ্যতেও দেশের অধিকাংশ যোগাযোগের চাহিদা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই পূরণ হবে বলে মনে করেন তিনি।

স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে আগে প্রবেশ করলেই কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাবে, এমন ধারণার সঙ্গেও একমত নন গোরম্যান। তিনি বলেন, ‘ভারত প্রথম দেশ হিসেবে ফাইভজি চালু করেনি। তবে বর্তমানে দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফাইভজি বাজার।’

সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করার তাগিদ

স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ডের উচ্চ ব্যয়ও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটিতে মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ তুলনামূলক কম। তাই সবার জন্য স্যাটেলাইট সংযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে যারা এখনো মোবাইল ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করছেন না, তাদের সংযোগের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন গোরম্যান।

পাশাপাশি ফাইভজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের সিক্সজি প্রযুক্তির প্রস্তুতির জন্য টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

সিক্সজিতে নেতৃত্ব দিতে চায় ভারত

সিক্সজির বৈশ্বিক মানদণ্ড ২০২৮ সালের দিকে চূড়ান্ত হতে পারে। এ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হতে পারে ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না, উদ্ভাবনের উপযোগী পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন গোরম্যান।