উচ্চমানসম্পন্ন (হাই-এন্ড) ব্র্যান্ড দ্য সিটিজেনকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপানি ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ওয়াচ। ২০২৭-২০২৭-২৮ অর্থবছরে নতুন মুভমেন্ট বা ঘড়ির অভ্যন্তরীণ উন্নত যান্ত্রিক প্রযুক্তিসহ ব্র্যান্ডটিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্রাহকদের ব্যয় করার প্রবণতা কমে আসায় বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রবৃদ্ধি অর্জনের কৌশল নিয়েছে সিটিজেন। নিক্কেই এশিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিটিজেন ওয়াচের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ইয়োশিতাকা ওজি।

কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এখন সাধারণ ঘড়ির চেয়ে মেকানিক্যাল ঘড়ির দিকে বেশি ঝুঁকছে সিটিজেন। ইয়োশিতাকা ওজি জানান, বিশ্ববাজারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ নতুন একটি মুভমেন্ট তৈরি করছে, যা ২০২৭ সালে উন্মোচন করা হবে। ওই সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে আতেসা এবং জাপানের বাজারে ক্যাম্পানোলা ব্র্যান্ডের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ইয়েন বা ৬৩০ ডলারের বেশি মূল্যের মেকানিক্যাল ডাইভ ঘড়ির বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আতেসা ব্র্যান্ডের ঘড়ি বিক্রি শুরু করে সিটিজেন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। ওজি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাধারণত ভারী ঘড়ির চাহিদা বেশি থাকলেও টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি আতেসার হালকা ডিজাইন মার্কিন তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।’

সিটিজেন মালিকানাধীন মার্কিন ব্র্যান্ড বুলোভাও বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূতদের মধ্যে জমকালো ডিজাইনের বুলোভা ঘড়ির চাহিদা বাড়ছে। এমনকি উচ্চমূল্য সত্ত্বেও ৬ হাজার ডলারের বিশেষ মডেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ভালো বাজার পাচ্ছে।

বিদেশের বাজারে সিটিজেনের অবস্থান শক্তিশালী হলেও জাপানের অভ্যন্তরীণ চিত্র ভিন্ন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে সিটিজেনের বিক্রি কমেছে। সিইও ওজির মতে, জাপানিদের স্বভাবজাত সঞ্চয় প্রবণতা এবং শেয়ারবাজার ভালো থাকা সত্ত্বেও এক ধরনের মানসিক অনিশ্চয়তা তাদের কেনাকাটা থেকে দূরে রাখছে। এছাড়া চীন থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জাপানের খুচরা বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটক বাড়লেও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে দ্য সিটিজেন এখনো তাদের কাছে খুব বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেনি। এ ঘাটতি কাটিয়ে ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি ও মার্কেটিং কৌশলে বড় বাজি ধরছে জাপানি এ ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।