বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য আমদানিকারক দেশগুলোর অন্যতম একটি জাপান। দেশটি স্থানীয় চাহিদার সিংহভাগই পূরণ করে আমদানির মাধ্যমে। কিন্তু বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট, ঊর্ধ্বমুখী দাম, লজিস্টিকস জটিলতা, ঊর্ধ্বমুখী পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণে আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে যেমন হিমশিম খেতে হচ্ছে, তেমনি আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্বের তৃতীয় অর্থনীতির এই দেশ। কয়েক বছরের মধ্যে খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দেশটি।

জাপানের গণমাধ্যম এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের এক খসড়া পরিকল্পনায় দেখা গিয়েছে, এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম বড় শস্য আমদানিকারক দেশ জাপান। এ অবস্থার পরিবর্তনে দেশের অভ্যন্তরে কৃষিপণ্য উৎপাদনে আরো মনোযোগ দিতে চায় সরকার। সেজন্য দেশের কৃষি খাতকে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়া এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সারসহ অন্যান্য সামগ্রীর জোগান দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারের প্রস্তাবে গম চাষের আওতা আরো ৯ শতাংশ বাড়াতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ সয়াবিন চাষের আওতাও বাড়িয়ে ১৬ শতাংশ করতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, শস্য উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ এবং সয়াবিন সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করা হবে। একই সময়ের মধ্যে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২০ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও কাজ করা হবে। আগামীকালের এক বৈঠকে এ প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।