ভারতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করেছে সেভেন ইলেভেন। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইনটি। জাপানের প্রতিষ্ঠান সেভেন অ্যান্ড আই হোল্ডিংস গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, ভারতে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশীদার রিলায়েন্স রিটেইল মুম্বাই ও পুনের ৩১টি সেভেন ইলেভেন স্টোর গত ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ধ করে দিয়েছে। খবর জাপান টুডে।

ঝটপট খাবার, পানীয় ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি পণ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত সেভেন ইলেভেন ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়ার জন্য বিখ্যাত। পাঁচ বছর আগে ভারতের বাজারে পা রাখে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২১ সালের অক্টোবরে ভারতে প্রথম সেভেন ইলেভেন স্টোর চালু হয়। রিলায়েন্স রিটেইলের সঙ্গে লাইসেন্স চুক্তির মাধ্যমে মুম্বাইয়ে প্রথম দোকানটি খোলা হয়েছিল। পরে মুম্বাই ও পুনেতে কার্যক্রম বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। একসময় ভারতে সেভেন ইলেভেনের স্টোরের সংখ্যা প্রায় ৬০টিতে উঠেছিল।

তবে ভারতীয় বাজারে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। স্টোরগুলো বন্ধ করার নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি সেভেন অ্যান্ড আই হোল্ডিংস। তবে জাপানের সংবাদপত্র নিক্কেই ও ইয়োমিউরি জানিয়েছে, স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছিল সেভেন ইলেভেন।

ভারতের খুচরা বাজার বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। দেশটিতে স্থানীয় ছোট দোকান ও পাড়ার মুদি দোকানের বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। একই সঙ্গে বড় ভারতীয় কোম্পানিগুলোও মুদি ও কনভেনিয়েন্স স্টোর ব্যবসা বাড়াচ্ছে। ফলে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারটিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ভারত থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি সেভেন অ্যান্ড আই হোল্ডিংস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভারতে ক্রেতাদের সেবা দেয়ার আগ্রহ তাদের রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে ব্যবসা বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ তারা খতিয়ে দেখবে।

এদিকে আরেক জাপানি কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন লসন ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে ভারতে প্রথম স্টোর খোলার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১০০টি স্টোর চালুর লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির।

ভারতের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বাড়তে থাকা ভোক্তা ব্যয় এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল খুচরা বাজারের কারণে দেশটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেভেন ইলেভেনের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, এ বাজারে সফল হতে স্থানীয় প্রতিযোগিতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ।