সোলার প্যানেল ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলজি ইলেকট্রনিকস। উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি ও বাজারদরের তীব্র প্রতিযোগিতাসহ নানা প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বোর্ড মিটিং শেষে কোরিয়ান এই টেকজায়ান্ট জানায়, আগামী ৩০ জুন থেকে কোম্পানিটি সোলার প্যানেল ও মডিউল উৎপাদন বন্ধ করে দেবে। এ খাতে কর্মরত ৯০০ জনকে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতে স্থানান্তর করা হবে।
তথ্য বলছে, ২০১০ সালে সোলার প্যানেল উৎপাদন ও বিপণন শুরু করে এলজি।
এক্ষেত্রে কোম্পানিটি উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন প্রিমিয়াম মডিউল উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়। কিন্তু মুনাফায় ধীরগতির কারণে লম্বা সময় ধরে ব্যবসায় খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে উৎপাদন উপকরণের বাজারদর লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে সোলার প্যানেল ও মডিউল তৈরিতে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানিটি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো অত্যন্ত কম দামে প্যানেল বিক্রি করায় প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়েছে এলজি।
সোলার প্যানেলের বৈশ্বিক বাজারে টেকজায়ান্টটির হিস্যা কয়েক বছর ধরেই ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০১৯ সালে কোম্পানিটির বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ওন (৯২ কোটি ২০ লাখ ডলার)। কিন্তু ২০২০ সালে বিক্রি কমে ৮০ হাজার ওনে নেমে আসে।
এলজি বলছে, সোলার প্যানেল ব্যবসা বন্ধ ঘোষণা করলেও প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি খাতে মজুদ প্রক্রিয়া, ভবনের জন্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে বিদ্যমান জ্বালানি বাণিজ্য বিভাগ রোবোটিকসের মতো লাভজনক খাতে বেশি মনোনিবেশ করবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত এক বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় কোনো বাণিজ্যিক খাত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিল এলজি। গত বছরের এপ্রিলে কোম্পানিটি হঠাৎ করেই ২৬ বছরের পুরনো স্মার্টফোন ব্যবসা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। কয়েক বছর ধরে অব্যাহত লোকসানের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।











