বহুমুখী প্রতিবন্ধকতায় বিশ্ববাজারে তুলার ব্যবহার নিম্নমুখী হয়ে ওঠার আভাস মিলেছে। ফলে আরো চাপের মুখে পড়তে পারে পণ্যটির বাজারদরও। এমন পরিস্থিতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। মার্কিন কৃষি বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তুলার বৈশ্বিক ব্যবহার চলতি মাসে ৩৩ লাখ বেল কমে ১১ কোটি ১৭ লাখ টনে নামতে পারে।
বিশ্লেষকরা জানান, শীর্ষ দেশগুলোর নিম্নমুখী সরবরাহ, ফ্যাব্রিক ও অ্যাপারেল কোম্পানিগুলো থেকে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, স্পিনিং মিলগুলোয় নিম্নমুখী মুনাফা মার্জিন এবং মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী হার ব্যবহারকে চাপের মুখে ফেলেছে।
তুলা ব্যবহারে বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশ—চীন, ভারত ও পাকিস্তান। দেশগুলোয় বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ব্যবহার কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। এ মাসে পণ্যটির ব্যবহার দুই বছরের সর্বনিম্নে নামবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউএসডিএ বলছে, ডিসেম্বরে ভারতে তুলা ব্যবহার আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ লাখ বেল কমতে পারে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ কোটি ৩০ লাখ বেলে। আগের মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় ব্যবহার ২০ লাখ বেল কমতে পারে।
ভারতে মৌসুমের শুরুতেই মজুদ কমে যাওয়া, টেক্সটাইল ও তুলাজাত পণ্যের নিম্নমুখী রফতানি এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দামের তারতম্য পণ্যটির ব্যবহার পরিস্থিতির জন্য নেতিবাচক হয়ে উঠছে।
চীনেও চলতি মাসে তুলা ব্যবহার আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ লাখ বেল কমানো হয়েছে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৫৫ লাখ বেলে। গত বছরের তুলনায় ব্যবহার বাড়লেও তা গত দুই বছরের তুলনায় কম।
চলমান কভিড-১৯সংক্রান্ত লকডাউন, স্থানীয় বাজারে অ্যাপেয়ারেল পণ্য বাণিজ্যে মন্দা, সুতার দাম কমে যাওয়া এবং তুলাজাত পণ্যের রফতানি তুলনামূলক কমে যাওয়াকে এর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ তুলা আমদানিকারক দেশ। ইউএসডিএর তথ্য বলছে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে দেশটি চীনে থেকে আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম তুলা আমদানি করেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানে তুলা ব্যবহার কমে ২০ বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে। চলতি মাসে সাত লাখ বেল কমিয়ে ৯০ লাখ বেল ব্যবহারের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত দুই বছরের তুলনায় ব্যবহার ২০ লাখ বেল কমতে পারে। নিম্নমুখী সরবরাহকেই ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে। এদিকে চলতি মাসে দেশটিতে তুলা উৎপাদন ৩৭ লাখ বেলে নামবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। সে হিসেবে উৎপাদন ৪০ বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে আমদানি আগের বছরের তুলনায় বেড়ে ৫০ লাখ বেলে পৌঁছতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির মিলগুলো। বিশেষ করে ঋণপত্র খোলা, ক্রয়াদেশ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্তকরণ নিয়ে বিপত্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ মাসে তুলার বৈশ্বিক ব্যবহার কমে এক দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্নে নামবে বলে মনে করছে ইউএসডিএ। আগের মাসের তুলনায় বৈশ্বিক উৎপাদন কমতে পারে সাত লাখ বেল। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১১ কোটি ৫৭ লাখ বেলে। উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে পাকিস্তানকে। এ নিয়ে টানা চার মাস দেশটিতে উৎপাদন কমতে যাচ্ছে।
ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্যবহার কমলে মজুদ বাড়তে পারে। তবে বাণিজ্য প্রায় ১০ লাখ বেল কমার আশঙ্কা রয়েছে। চীনের বাণিজ্যে স্লথগতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।










