কভিডসহ অন্য চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রি বাড়ায় চলতি বছরের আয়ের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আয় ও মুনাফা প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় পুরো বছরে আয় বাড়ার আশা করছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা বিক্রি কমে যাবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে কভিডের অন্য চিকিৎসাসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে চলতি বছর ২০ শতাংশ আয় বাড়বে বলে আশা করছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।
একটি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাত্কারে সংস্থাটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা আরাধনা সারিন বলেন, আমরা প্রতিটি অঞ্চল ও বাজারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রি বাড়তে দেখছি।
প্রতিষ্ঠানটি এখন আশা করছে, টিকা বিক্রি কমলেও কভিডের অ্যান্টিবডি থেরাপি ইভুশেল্ডের ক্রমবর্ধমান চাহিদা সেই জায়গা পূরণ করবে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা মানুষের জন্য ইভুশেল্ডের চিকিৎসা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। চলতি বছর কভিডজনিত চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রি গত বছরের মতোই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও আগের পূর্বাভাসে ২০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এপ্রিল-জুন সময়ে সংস্থাটির আয় বেড়ে ১ হাজার ৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যেখানে বিশ্লেষকরা ১ হাজার ৬০ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ সময়ে সংস্থাটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১ ডলার ৭২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। যেখানে পূর্বাভাস ছিল ১ ডলার ৫৮ সেন্ট।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী প্যাসকেল সরিয়টের অধীনে গত কয়েক বছরে ক্যান্সারের চিকিৎসায় অনেক বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বদলে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাপানের ডাইচি সানকিওর সঙ্গে ৬৯০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির অধীনে যৌথভাবে এনহার্তু ওষুধ তৈরি করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহূত ওষুধটি চলতি বছরের শুরুতে কার্যকরী হিসেবে গবেষণায় প্রমাণিত হয়।
অ্যাস্ট্রাজেনেকা উল্লেখ করেছে, অ্যালেক্সিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালসকে অধিগ্রহণ বিরল রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারে প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটি গবেষণা ও উন্নয়নেও ব্যয় বাড়িয়েছে।









