চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফার মুখ দেখলেও ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বোয়িং। মূলত সামরিক উড়োজাহাজ খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা কমে আসা এবং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সংস্থাটির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খবর এপি।
এপ্রিল-জুন সময়ে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ মুনাফার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কম। এ সময়ে সংস্থাটির আয়ও ২ শতাংশ কমেছে। করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় প্রথম প্রান্তিকে উড়োজাহাজ সরবরাহের মাধ্যমে আয় বেড়েছিল বোয়িংয়ের। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য এয়ারলাইনস ও উড়োজাহাজ অপারেটরদের কাছে বিভিন্ন পরিষেবাও বিক্রি করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে মুনাফায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বোয়িংয়ের ৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজগুলো। এ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি এ মডেলের কোনো উড়োজাহাজই সরবরাহ করতে পারেনি। সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সরবরাহ আবারো চালু করার অনুমতি দিয়েছে। এদিকে মিসৌরি ও ইলিনয়েসে অবস্থিত সামরিক কারখানায় ২ হাজার ৫০০ কর্মীর কর্মবিরতির হুমকিও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উড়োজাহাজ প্রকৌশলীদের ইউনিয়ন তাদের বেতন-ভাতা ও অবসর গ্রহণের পর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। মূলত অবসর নেয়ার পর কর্মীদের পেনশন দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসায় বোয়িংয়ের কর্মীরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় এবং বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে।
বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিএনবিসিকে বলেন, বোয়িং কর্মীদের ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। কর্মবিরতির ঘোষণার কারণে পেন্টাগনে সরবরাহ দেরি হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বোয়িংয়ের সামরিক খাতের ব্যবসা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কমেছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নৌবাহিনী এবং এর স্টারলাইনার মহাকাশযানের জন্য তৈরি করা মানববিহীন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজের জন্য ২৪ কোটি ডলার চার্জ নিয়েছে। এটি নভোচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।
এর আগে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ম্যাক্স উড়োজাহাজের দুর্ঘটনার কারণে বোয়িংয়ের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ক্যালহাউন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে গতি তৈরি করছি। সেই সঙ্গে এটি প্রতিষ্ঠানটির জন্য দীর্ঘ পথ ছিল।
কর্মীদের কাছে পাঠানো এক নোটে ক্যালহাউন জানান, ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উৎপাদন সংখ্যা বাড়তে পারে। সেটি প্রতি মাসে ৩১টি হতে পারে। এ সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
বোয়িং জানায়, এফএএ ও ভোক্তাদের সঙ্গে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজটি সরবরাহ আবার চালু করা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ড্রিমলাইনারের সরবরাহ আবার চালু হলে বেশ লাভবান হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।









