হ্যালোইন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মিষ্টিজাতীয় খাবার ও চকোলেটের বিক্রি সাধারণত বেড়ে যায়। উৎসবটি সামনে রেখে পরিবারগুলো নানা ধরনের ক্যান্ডি কিনে রাখে। শিশুদের মধ্যে এসব মিষ্টি বিতরণও এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। এবার সে চিত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও চকোলেটের উচ্চমূল্যের কারণে হ্যালোইন ক্যান্ডি কেনায় কাটছাঁট করছেন মার্কিন ক্রেতারা। ফলে উৎসব মৌসুম শুরু হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি বাড়ছে না বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এপি।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়েলসনআইকিউর তথ্যানুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শেষ হওয়া গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিও বিক্রিতে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছিল।

নিয়েলসনআইকিউর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খাদ্যপণ্য খাতের বিশ্লেষক ক্রিস কোস্টাগলির মতে, জ্বালানি, আবাসন, পোশাক ও খাবারের পেছনে বাড়তি অর্থ ব্যয় করছে মার্কিন পরিবারগুলো। ফলে উৎসবের জন্য ক্যান্ডি কেনার মতো খরচ কমিয়ে আনছেন অনেকে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ২৯ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এ দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

কোস্টাগলির মতে, ক্যান্ডির দাম বাড়ায় ক্রেতারা শুধু কেনাকাটা কমিয়েছেন তা নয়। অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বেশি ব্যয় হয়ে যাওয়ায় অনেকের হাতে উৎসবের বাড়তি কেনাকাটার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকছে না।

বিক্রির ধরনেও এ পরিবর্তন দেখা গেছে। নিয়েলসনআইকিউর তথ্য বলছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শুধু ছোট প্যাকেটের ক্যান্ডি বিক্রি বেড়েছে। বড় ও অতিরিক্ত বড় প্যাকেটের বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে। অর্থাৎ ক্রেতারা ক্যান্ডি কেনা পুরোপুরি বন্ধ না করলেও পরিমাণ কমিয়ে আনছেন।

পাঁচ বছরে ক্যান্ডির দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছর ধরেই সাধারণ খাদ্যপণ্যের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে ক্যান্ডির দাম। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে ক্যান্ডি ও চুইংগামের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে সাধারণ খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ক্যান্ডির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ কোকোর উচ্চমূল্য। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় প্রতিকূল আবহাওয়ায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে কোকোর দাম টনপ্রতি রেকর্ড ১০ হাজার ৭১০ ডলারে উঠেছিল। বিশ্বে ব্যবহৃত কোকোর প্রায় ৭০ শতাংশ আসে এ অঞ্চল থেকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু চকোলেটের দামই ক্যান্ডি বিক্রির দুর্বলতার কারণ নয়। নিয়েলসনআইকিউর তথ্যানুযায়ী, চকোলেটবিহীন ক্যান্ডি— যেমন জেলি মিষ্টি ও ললিপপের দাম সম্প্রতি কিছুটা কমেছে। চলতি মাসে এসব ক্যান্ডির গড় দাম ছিল প্রতি পাউন্ডে ৬ ডলার শূন্য ৮ সেন্ট, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম। কিন্তু দাম কমলেও বিক্রি বাড়েনি।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্কানার বৈশ্বিক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খাদ্য শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা স্যালি লায়ন্স ওয়্যাট বলেন, ‘মানুষ এখন কী খাবে বা ব্যবহার করবে তা নিয়ে ভীষণ হিসাবি ও সচেতন।’