চীনের কারখানায় ১০ লাখতম গাড়ি উৎপাদন করেছে বিশ্বখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। এর মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে একটি মাইলফলক পূর্ণ করল প্রতিষ্ঠানটি। আর এর সঙ্গে বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও অনেকটুকু এগিয়ে গেল।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলোন মাস্ক এক টুইট বার্তায় এ মাইলফলক পেরোনোর খবর দিয়েছেন। তিনি জানান, ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া ও সাংহাইয়ের কারখানা মিলিয়ে মোট ৩০ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন করেছে টেসলা।
তবে চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশন (সিপিসিএ) বলছে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত টেসলা ৯ লাখ ৭৪ হাজার গাড়ি তৈরি করেছে। আগস্টের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি সাংহাইয়ের কারখানায় কেবল ২৬ হাজার গাড়ি তৈরি হয়েছে। গত বছরের শেষার্ধ এবং এ বছরের শুরুর সময়ের তুলনায় এ উৎপাদন সংখ্যা বেশ কম। সে সময় মাসে ৬৭ হাজার গাড়ি তৈরির রেকর্ডও রয়েছে টেসলার। অর্থাৎ উৎপাদনে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
কভিড-১৯ মহামারী সংক্রান্ত কারণে ঘোষিত লকডাউনের জন্য যে ক্ষতি হয়েছিল, তা পুষিয়ে নিতে বেশ জোরেশোরে উৎপাদন শুরু করেছিল টেসলা। সে সময় চীনে এক মাসে ৭১ হাজার গাড়ি উৎপাদনের রেকর্ডও গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জিএলজে রিসার্চের সিইও গর্ডন জনসন বলেন, যদি চীনের কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো না যায়, তাহলে টেসলার যে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা আছে তা পূরণ করা সম্ভব হবে না। আমার মনে হয় না সরবরাহ চেইনে কোনো সংকট আছে। আমার ধারণা টেসলার পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে তারা এটা করছে।
টেসলাকে এ মুহূর্তে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। যার কারণে মার্কেট শেয়ার হারাচ্ছে কোম্পানিটি। যদিও এসব বিষয়ে টেসলা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ইলোন মাস্কের টুইটের আগে চীনে উৎপাদন সক্ষমতা বা কতটি গাড়ি উৎপাদিত হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি টেসলা। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি সাংহাইয়ে টেসলার কারখানাটি স্থাপিত হয়। ওই বছরই ডিসেম্বরে প্রথম গাড়ি হাতে পান ক্রেতারা। শুরুতে টেসলা মডেল থ্রি উৎপাদন করা হলেও পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয় মডেল ওয়াই।
সাংহাইয়ের টেসলা গিগা কারখানাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ কারখানা। সবশেষ ত্রৈমাসিকের ফলাফল অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি এখানে নির্মাণ সম্ভব।








