ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে তুলার ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্যানুযায়ী, প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোর ৪০-৪৫ শতাংশ তুলার জমি পানিতে ডুবে যায়। ফলে চলতি মৌসুমে তুলা উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। খবর ফাইবারটুফ্যাশন। 

পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সবচেয়ে বেশি তুলা জন্মে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ভারি বৃষ্টির পর সম্প্রতি এসব অঞ্চল বন্যার কবলে পড়ে। ফলে বিপুল পরিমাণ তুলার জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় কিংবা বন্যায় তলিয়ে যায়। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সংগ্রহ করছেন।

এর আগে চলতি মৌসুমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) তুলা উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সাম্প্রতিক ক্ষতির কারণে উৎপাদন কমে গেলে দেশটির বস্ত্র শিল্পের জন্য আরো বেশি তুলা আমদানি করতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যেতে পারে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, চীন ও অন্যান্য দেশে তুলার ফলন কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সংকট বাড়ছে। 

ফাইবারটুফ্যাশনের বাজার পর্যবেক্ষণকারী টুল টেক্সপ্রোর তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানের তুলা আমদানি ২০২০ সালে সাড়ে সাত লাখ বেল থেকে ২০২১ সালে বেড়ে ৮ লাখ ১৯ হাজার বেলে পৌঁছেছে। এ বছর প্রথম চার মাসেই দেশটি ২ লাখ ১৬ হাজার বেল আমদানি করেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা সত্য হলে পাকিস্তানের তুলা আমদানি এ বছর ব্যাপকভাবে বাড়বে।