বিশ্ব দিন দিন নগদ লেনদেন থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকলেও বাংলাদেশে এখনো অনেকেই কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করতে চায় না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে নগদে লেনদেন খুব কম দেখা গেলেও বাংলাদেশে এখনো ক্রেডিট কার্ডের খুব বেশি ব্যবহার দেখি না। নগদবিহীন লেনদেনকে আরো উৎসাহিত করার বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু অনেককেই দেখলাম, তারা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করতে চায় না। ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নিতে চায় না। আমরা এখন এগুলো অনুৎসাহিত করতে চাচ্ছি।
শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ও মাস্টারকার্ডের যৌথভাবে একাধিক নতুন কার্ড সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বিদেশে গিয়ে ১০০ ডলার নগদ দিলে দোকানদার তাকিয়ে থাকে যে আসলেই কি ১০০ ডলার দিয়েছে কিনা! এটা ওদের জন্য অনেক বিরাট ব্যাপার। ছোটখাটো কেনাকাটা ছাড়া কেউ নগদ ব্যবহার করে না। এটাই অনুশীলন। নগদবিহীন বা কার্ডে লেনদেনের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে লেনদেন সবসময় স্বচ্ছ, যেকোনো সময় শনাক্ত করা যায় এবং দরকার হলে জবাবদিহি করা যায়।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে জোর দিচ্ছি, সেখানে ক্রেডিট কার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি কর্মকর্তাদের কত টাকাই বা থাকে কিংবা থাকলেও আমরা তো সঠিক জানি না। সেজন্য তাদের থেকেও ব্যবসায়ীদের ক্রেডিট কার্ড বেশি দরকার হয়। দেশের অর্থনীতি এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং সেই সঙ্গে বাড়ছে রিজার্ভের পরিমাণ। সময়ের সঙ্গে নিত্যনতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তনে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের খুব দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ আসছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছি, এটা নিয়ে অনেক কথাবার্তা হলেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। সেজন্য আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেয়ার, তা নেব। আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমি আশা করব, ব্যবসায়ীরা এক্ষেত্রে এগিয়ে আসবেন; কিন্তু ধীরেসুস্থে শম্ভুক গতিতে নয়, আমাদেরকে এখন খুব দ্রুত আগাতে হবে। অন্যান্য দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেন আর পেছনে পড়ে না থাকি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হক।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও ড. মো. জাহিদ হোসেন ও সিএফও ড. তাপস চন্দ্র পাল প্রমুখ।










