চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে মার্কিন অর্থনীতি। দেশটিতে ভোক্তা ব্যয় দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতিতে বেড়েছে। কমে গিয়েছে ব্যবসায়িক ব্যয়ও। এ অবস্থায় বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকের পতন মূলত গাড়ি শিল্পে চলমান ঘাটতির কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনিশ্চয়তাকে প্রতিফলিত করে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম দুর্বল ছিল। একমাত্র খাত হিসেবে রফতানি উজ্জ্বল রয়ে গিয়েছে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম চার দশকের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে সুদের হার বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বুধবারও ফেডারেল রিজার্ভ রেপো হার আরো তিন-চতুর্থাংশ বাড়িয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভোক্তা ব্যয়ও খুব ধীরগতিতে বেড়েছে। মার্কিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অবদান রাখা এ ব্যয় মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর সবচেয়ে ধীর। এ সময়ে মোট বেসরকারি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গিয়েছে।
কানাডীয় বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সাল গুতেরি বলেন, অর্থনীতি মন্দায় পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আগামী সেপ্টেম্বরে পুনরায় সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ থেকে ফেডারেল রিজার্ভকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
সরকারের আগাম অনুমান অনুসারে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যদিও রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন জিডিপি দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। এর আগে প্রথম প্রান্তিকেও দেশটির অর্থনীতি ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি ১ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হলো।
সংজ্ঞা হিসেবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের সংকোচন মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা চিহ্নিত করে। তবে অর্থনীতিবিদ, ফেড ও হোয়াইট হাউজ বিস্তৃত কার্যক্রমের ভিত্তিতে বলছে অর্থনীতি মন্দার মধ্যে নেই। মন্দার সংজ্ঞা নিয়ে অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ বলছে, অর্থনীতিজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে একটি উল্লেখযোগ্য পতন, যা কয়েক মাস স্থায়ী হয়। সাধারণত উৎপাদন, কর্মসংস্থান, প্রকৃত আয়সহ অন্যান্য সূচক কয়েক মাস ধরে নিম্নমুখী হলে সেটাকে মন্দা বলা হয়।
তবে মার্কিন অর্থনীতির কিছু সূচক নিম্নমুখী হলেও কিছু সূচক ঊর্ধ্বমুখীও রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রতি মাসে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক ফিচ রেটিংয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান কুলটন বলেন, এখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদায় একটি অন্তর্নিহিত মন্দা তৈরি হয়েছে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এটি উচ্চমূল্যস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর কারণে সৃষ্ট মন্দাকে প্রতিফলিত করে না। এ দুটি বিষয়ই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন গত ১৮ মাসে প্রশাসনের অর্জনের কথা তুলে ধরছেন। এর মধ্যে রয়েছে করোনা মহামারীতে রেকর্ডসংখ্যক মার্কিন নাগরিক চাকরি হারানোর পর কর্মসংস্থানের বাজারকে শক্তিশালী করা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিস্থাপক হিসেবে গড়ে তোলা। ইয়েলেন অবশ্য স্বীকার করেছেন, অর্থনীতির কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে এবং আগামীতে অসংখ্য ঝুঁকি রয়েছে।









