প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সূতিকাগার চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান। সেখান থেকেই ভাইরাসটি পুরো বিশ্বে ছড়িয়েছে। দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক মহামারী। এ মহামারী চীন ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। তবে ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় চীনে ইস্পাত উৎপাদন কমে গেছে। গত মার্চে দেশটিতে ইস্পাত ও ইস্পাতজাত বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনে ধস দেখা গেছে। খবর সিনহুয়া ও মাইনিংডটকম।
চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে দেশটির কারখানাগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ১৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম।
এ সময় চীনে প্রতিদিন গড়ে ১৮ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত আয়রন উৎপাদন হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে ধাতব পণ্যটির উৎপাদন কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। গত মাসে দেশটিতে রোলড স্টিল উৎপাদন ফেব্রুয়ারির তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময় চীনে ধাতব পণ্যটির দৈনিক গড় উৎপাদন ছিল ১৭ লাখ ৭০ হাজার টন।
চীনে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার গড় বছরের শেষ দিকে শুরু হয়। তবে চলতি বছরের শুরুতে দেশটি এ কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয়। তখন থেকেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রয়েছে চীন সরকার। স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য। শ্লথ হয়ে এসেছে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি।
এ পরিস্থিতিতেও বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) চীনের ইস্পাত উৎপাদন খাত চাঙ্গা ছিল বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউএসএ)। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ চীনে গত জানুয়ারিতে সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৪৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
একই চিত্র দেখা গেছে ফেব্রুয়ারিতেও। গত মাসে চীনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৫ শতাংশ। উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৪৮ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত।
বছরের শুরু থেকেই চীনে ইস্পাত উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির ধারা কমতির দিকে ছিল। এ ধারাবাহিকতায় মার্চে এসে শিল্প ধাতুটির উৎপাদনে আগের মাসের তুলনায় রীতিমতো ধস নেমেছে।









