চলতি মৌসুমে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা জয়পুরহাটে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি সরিষা উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে কৃষি অধিদপ্তর। অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচ ও অল্প সময়ে ফসল ঘরে তুলতে পারার সুবিধা থাকায় এ বছর আবাদি জমির পরিমাণও বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে ভোজ্যতেলের উচ্চমূল্য কৃষকদের সরিষার ভালো দাম পেতে সাহায্য করছে।

জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চলতি ২০২৩-২৪ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে পাঁচবিবি, আক্কেলপুর ও সদর উপজেলায়। সদর উপজেলার কড়ই, বম্বু, দস্তপুর, পুরানাপৈল, সোটাহার, পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা, আয়মারসুলপুর, কড়িয়া, ফিসকারঘাট ও আক্কেলপুর উপজেলার ইসলামপুরসহ বেশকিছু এলাকায় বিস্তৃর্ণ জমিতে আবাদ করা সরিষায় এরই মধ্যে ফুল ধরেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, সরিষা চাষের ফলে এলাকায় মধু উৎপাদনও বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ বিকালে হলদে ফুলে ফুলে ভরে ওঠা সরিষা খেত দেখতে আসছে। কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নিলে মৌসুমি পর্যটনেরও বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।

এদিকে সরজমিনে দেখা গেছে, এরই মধ্যে অনেক এলাকায় সরিষার দানা আসতে শুরু করেছে। তেলবীজের ভালো চাহিদা থাকায় চলতি মৌসুমে জেলায় গত মৌসুমের তুলনায় সরিষা আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে সাড়ে ছয় হাজার হেক্টরেরও বেশি। 

জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, ‘গত বছর এ এলাকায় এত সরিষার চাষ ছিল না। ভোজ্যতেলের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা বেশি করে সরিষার চাষ করেছেন। আমিও এবার সাড়ে চার বিঘা জমিতে চাষ করেছি। এক বিঘাতে ছয়-সাত মণ ফলন হয়। প্রতি মণে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যায়।’

কয়েক বছর আগেও শীতকালে আলুর আবাদ করতেন পাঁচবিবি উপজেলা কড়িয়া এলাকার কৃষক কুতুবুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গত বছর আলু চাষ করে ব্যাপক লোকসানে পড়েছিলাম। তাই এবার সরিষার চাষ করেছি। বাজারে সরিষার তেলের ভালো চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাব বলে আশা করছি।’

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. রাহেলা পারভীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা সহজে ও কম খরচে চাষ করা যায়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করায় এবার সরিষা চাষ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে (২০২৩-২৪) জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। গত বছর (২০২২-২৩) চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর। ফলে এ বছর ৬ হাজার ৬৮৯ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ২৯৮ টন।