অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে জাপানের অর্থনীতি, যা দেশটিতে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি এখন তৃতীয় থেকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকা তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইউরোপের জার্মানি। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।

গতকাল জাপান সরকার জানিয়েছে, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জাপানের জিডিপি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অর্থনীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়, যদিও পূর্বাভাস ছিল যে প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। টানা দুটি প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হলে মন্দা বলে ধরে নেয়া হয়। জাপান এমন একসময়ে এ অবস্থায় পড়ল, যখন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ কয়েক দশকের ব্যাপক শিথিল অর্থনৈতিক নীতি থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার দিকে হাঁটছিল।

সাম্প্রতিককালে জাপানে জ্বালানি তেল ও খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়েছে। ফলে দেশটির ভোক্তারা কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এরই প্রভাব পড়েছে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

অর্থনীতিবিদ নীল নিউম্যান বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাব সামনের সময়গুলো জাপানের অর্থনীতি আরো সংকুচিত হতে পারে। যার অন্যতম কারণ জানুয়ারিতে হওয়া ভূমিকম্প। ওই সময় ভোক্তারা তাদের খরচ আরো কমিয়ে দিয়েছেন।’

বছরের প্রথম দিনের ওই ভূমিকম্পে প্রায় ২৩৮ জন জাপানি মারা যান। রিখটাল স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ মাত্রা।

নীল নিউম্যান আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলোয় দেখা গেছে ২০২৩ সালে জাপানের অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে জার্মানির ছিল ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।’

অর্থনৈতিক এ পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দুর্বলতা। নিউম্যান বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে ইয়েন যদি শক্তিশালী হওয়া শুরু করে, তখন হয়তো আবার বিশ্ব অর্থনীতিতে তৃতীয় স্থানে ফিরে যাবে জাপান।’

চলতি মাসে টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের ডেপুটি হেড গীতা গোপীনাথও বলেছিলেন, ‘বিশ্বের অর্থনৈতিক দেশগুলোর মধ্যে জাপান পিছিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ গত বছর মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিনিময় হার প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে।’

চলতি সপ্তাহে টোকিওর প্রধান স্টক ইনডেক্স নিক্কেই ২২৫ প্রথমবারের মতো ৩৮ হাজার মার্ক অতিক্রম করেছে, যা ১৯৯০ সালের পর প্রথম। এর আগে ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে নিক্কেই ২২৫-এর রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৯১৫ দশমিক ৮৭ নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের অর্থনীতি চলতি প্রান্তিকেও আরো খাদে পড়তে পারে। বিশেষ করে চীনে জাপানি পণ্যের কম চাহিদা, দেশের অভ্যন্তরে ভোগ কম এবং টয়োটার মতো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন হ্রাসের কারণে এমনটা ঘটবে। 

জাপানের অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ইয়োশিকি শিনকে বলেন, ‘এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো ভোগ ও মূলধন ব্যয়ের মন্থর গতি, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদার মূল স্তম্ভ। আর প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছাড়া আপাতত অর্থনীতিতে মন্থর গতি অব্যাহত থাকবে।’