বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই লালমনিরহাটের কাঁচাবাজারগুলোতে হঠাৎ করেই কাঁচামরিচের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তবে পেঁয়াজ-রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাটের পাইকারি ও খুচরা বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও কাঁচামরিচ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। তবে বর্তমানে পণ্যটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

পাটগ্রাম উপজেলার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী মো. রুস্তম আলী বলেন, কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। তবে কাঁচামরিচের দাম এক সপ্তাহ আগেও কেজিপ্রতি ৩০ টাকা ছিল। এখন দাম বেড়ে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য খাদ্যশস্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন। রুস্তম আলী বলেন, বাজারে পটোল ৪০ টাকা, করলা ৪০, ঢেঁড়স ৩০ ও দুধকুশি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে জানা যায়, কাঁচামরিচের দাম বাড়লেও পেঁয়াজ ও রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। রসুন আগের মতোই প্রতি কেজি ৮০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশী পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০ টাকা ও আমদানীকৃত পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে জেলার বাজারগুলোতে অন্যান্য খাদ্যশস্যের দামও চড়া। কাঁচাবাজারের পাইকারি আড়তের তুলনায় খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে খাদ্যশস্য। পাইকারি বাজারে আলু ১৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী আলু পাইকারিতে ২৫ ও খুচরা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা বাজারে পটোল ৪০, ঝিঙা ৪০, ঢেঁড়স ৩০ ও রসুন ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লালমনিরহাট গোসালা কাঁচাবাজারের পাইকারি আড়ত ব্যবসায়ী মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর মো. আলম হোসেন বলেন, করোনায় এখন পর্যন্ত কাঁচাবাজারের পণ্য লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়েনি। পাইকারি কিংবা খুচরা ক্রয়-বিক্রয়েও নেতিবাচক প্রভাব নেই। তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় কাঁচামরিচের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোটামুটি অন্যান্য সবজির দাম স্বাভাবিক বা স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ বছর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই পেঁয়াজ-রসুনের দাম বৃদ্ধির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে কেউ যাতে সিন্ডিকেট করে কাঁচাবাজারে পেঁয়াজ-রসুনসহ খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে না পারে সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।