উচ্চ দাম থাকা সত্ত্বেও জাপানে কোকো চকোলেট বিক্রি বেড়েছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ক্যান্ডি নির্মাতা ও ডিপার্টমেন্টগুলো তাদের দোকান নতুন করে সাজিয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চকোলেটের মূল উপাদান কোকো বিনের খরচ বেড়েছে। ইয়েনের বিনিময় হার দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য উপকরণ, রসদ ও জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণে জাপানি মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারীরা চকোলেটের দাম বাড়িয়েছে। লোটে ও মেইজি যথাক্রমে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে চকোলেটের দাম বাড়িয়েছে।
লোটের একজন মুখপাত্র নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, ‘কোকো বিনের বাজারদর প্রতিদিন বেড়ে চলেছে এবং পরিস্থিতি কেবল আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, সমগ্র শিল্পের জন্যই কঠিন হয়ে উঠছে।’
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রোর) জানুয়ারির শেষের দিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ১৯৭০ সালের পর থেকে চকোলেটের দাম সর্বোচ্চ। ইন্টারন্যাশনাল কোকো অর্গানাইজেশন (আইসিসিও) ঘানা ও আইভরি কোস্টে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ২০২৩-২৪ মৌসুমে কোকো বিন সরবরাহ ব্যাপক কমের কথা জানিয়েছে। জেট্রোর মতে, পশ্চিম আফ্রিকার দুটি দেশ বিশ্বের কোকো উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ তৈরি করে।
জানুয়ারির শেষের দিকে নিক্কেই জানায়, জাপানে দেশীয় পাইকারি চিনির দাম গত ৪৩ বছরে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান দাম সত্ত্বেও চকোলেটের জন্য ভোক্তাদের চাহিদা শক্ত বলে মনে হচ্ছে।
টোকিওর মাতসুয়া জিনজা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরটি সোমবার, ভ্যালেন্টাইনস ডের আগে তিনদিনের সপ্তাহের শেষ দিনটিতে বিক্রি বেশি ছিল।
একজন ক্রেতা বলেন, চকোলেটের দাম গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে। গ্রাহক ও বিক্রি উভয়ই একই সময়ে ২০২৩ সাল থেকে বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভ্যালেন্টাইনের মৌসুমে বিক্রি অনেক বেশি, গ্রাহকসংখ্যাও বেড়েছে। অথবা আপনি যে পণ্যগুলো শুধু এখানে পেতে পারেন তা চেষ্টা করছেন। খাওয়ার জায়গা ছাড়াও মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারীরা সাইটে মিষ্টি তৈরি করার সময় গ্রাহকরা দেখতে পারেন।’
আরেকটি বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোর তাকাশিমায়া জানায়, তাদের চকোলেট বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। লোটে বলেছে যে তার জানুয়ারিতে চকোলেটের চালান গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও মিষ্টি কোম্পানি উভয়ই ভ্যালেন্টাইনস ডের গ্রাহকদের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে জাপানে, মেয়েরা বা নারীরা ফেব্রুয়ারিতে তাদের পুরুষ বন্ধু, পরিচিত ও এমনকি সহকর্মীদের চকোলেট দেয়। কিন্তু এ দিনগুলোয় ভোক্তারা নিজেদের জন্যও চকোলেট কিনতে চাইছেন।৷
মাতসুয়া গিঞ্জায় নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘আমি নিজের জন্য চকোলেট কিনতে এসেছি, দাম বেশি, এটা কোনো ব্যাপার নয়।’
তাকাশিমায়ার একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘বছরের পর বছর স্বপুরস্কার হিসেবে (চকোলেট) কেনার জন্য আরো চাহিদা বেড়েছে।’










