একদিকে সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যকার মূল্যযুদ্ধ, অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী—এ দুইয়ের জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাও চাহিদা বাড়িয়ে জ্বালানি পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। বাজার পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে এ পরিস্থিতিতেও আশার কথা শুনিয়েছেন রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার দুকভ। তার মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেল সর্বোচ্চ ৪৫ ডলারে উঠতে পারে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

রাশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাত্কারে দেশটির প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার দুকভ বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ৪০-৪৫ ডলারে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর পেছনে তিনি দুটি পূর্বশর্ত দিয়েছেন।

দুকভের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের প্রধান কারণ চাহিদা কমে যাওয়া। বিশেষত নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশে দেশে লকডাউন চলমান থাকায় জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদায় রেকর্ড পতন দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদা বাড়ানো ছাড়া আগামীতে জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিকল্প নেই।

দুকভের আরেকটি শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান লকডাউন পরিস্থিতি দ্রুত তুলে নেয়া। তার মতে, জ্বালানি তেলের বাজারে চীনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্র। চীনে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন তুললে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে। বাড়তে শুরু করবে দাম।

গ্যাজপ্রম চেয়ারম্যান বলেন, জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি পুরোটাই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোয় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর। মন্দার ধাক্কা যত দ্রুত সামলানো সম্ভব হবে, যত দ্রুত অর্থনীতিতে গতি ফিরবে, জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে দামও বাড়বে।

একই সঙ্গে ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর সম্মিলিত চুক্তির আওতায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানান দুকভ। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দেশে উত্তোলন কমানো প্রয়োজন। তা না হলে সংকুচিত চাহিদার বিপরীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেশি থাকতে পারে। এ অবস্থা বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক নয়।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ কার্যদিবসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বিক্রি হয় ১৮ ডলার ২৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম। এদিন ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয় ব্যারেলপ্রতি ২৭ ডলার ৯২ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি।