বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৩-এর খসড়ায় সংযুক্ত হচ্ছে জয়েন্ট ট্রেড ওয়ার্কিং কমিটির (জেটিডব্লিউসি) ধারা। নতুন খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক ও বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে এ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন করে থাকছে সংগঠনের লাইসেন্স প্রাপ্তিতে নতুন শর্ত, সংগঠনের গঠনতন্ত্রে সংযোজন-বিয়োজনের নিয়ম, সদস্যদের ধরন পরিবর্তন, সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইট ডেভেলপসহ বেশ কয়েকটি বিষয়। 

খসড়া বিধিমালার ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, জয়েন্ট ট্রেড ওয়ার্কিং কমিটিতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) একজন সহসভাপতি, চারজন পরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মনোনীত একজন করে সদস্য থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিকে কো-অপ্ট করা এবং সভায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে কমিটি। প্রতি তিন মাসে একটি করে সভা আয়োজনের বাধ্যবাধকতা টানা হয় বিধিমালায়। 

এছাড়া সমজাতীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের বাণিজ্য সংগঠনের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আগে কোনো শর্ত ছিল না। নতুন খসড়া বিধিমালায় লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যুক্ত করে দেয়া হচ্ছে শর্ত। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার বাধ্যবাধকতা যুক্ত হয়েছে বিধিমালায়। বিধিমালার ধারা-৩-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী ১১টি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত হয়ে নতুন বাণিজ্য সংগঠনের জন্য ছাড়পত্রের আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে নামের ছাড়পত্রের আবেদন করতে হবে। নামের ছাড়পত্রের মেয়াদ থাকবে ছয় মাস। এ ছয় মাসের মধ্যে লাইসেন্স প্রাপ্তির যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। 

নামের ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর প্রস্তাবিত বাণিজ্য সংগঠনের ওয়েবসাইট ডেভেলপ করার বাধ্যতামূলক বিধান রাখা হয়েছে। ধারা-৪-এ বলা হয়, নামের ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর আবশ্যিকভাবে প্রস্তাবিত বাণিজ্য সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইট ডেভেলপ করতে হবে। ওয়েবসাইটে সংগঠন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য বিবৃত থাকবে।  

বিধিমালার ১০ নং ধারায় বাণিজ্য সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্রের (সংঘবিধি ও সংঘস্মারক) সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়ম করা হয়েছে। বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-১৯৯৪-তে এ সম্পর্কিত কোনো নিয়ম ছিল না। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, হালনাগাদ বৈধ সদস্যদের এক-চতুর্থাংশের উপস্থিতিতে ও উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে সংশোধন প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও যৌথমূলধন কোম্পানি এবং ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের সত্যায়ন করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক আদেশ জারির পর প্রস্তাবিত বিধি সংশোধিত বলে গণ্য হবে। আগে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে চার ধরনের সদস্য থাকার সুযোগ থাকলেও এখন থেকে তিন ধরনের সদস্য থাকবেন। বিধিমালার ৬ নং ধারায় সদস্যদের সংখ্যাও পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। তিন ধরনের সদস্য হচ্ছে সাধারণ সদস্য, গ্রুপ ও শহর সমিতি। এর মধ্যে সহযোগী সদস্য ধরনটি বাদ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন, গ্রুপ ও শহর সমিতিতে শুধু সাধারণ সদস্য থাকবে। এখান থেকেও সহযোগী সদস্যপদটি বাদ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিনিয়োগকারী বিদেশী নাগরিকরা আগে সদস্য হতে না পারলেও এখন থেকে তারাও সদস্য হতে পারবেন। এছাড়া যৌথ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে পাঁচজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর বিপরীতে ন্যূনতম দুজন সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।  

সব চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনকে সরকার আগে ক, খ, গ—এ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করলেও এখন থেকে ক ও খ শ্রেণীতে বিভক্ত হবেন। সে অনুযায়ী তাদের ফি নির্ধারণ হবে। প্রতি বছর ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সদস্যদের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করতে হবে। তবে আবেদন সাপেক্ষে চাঁদা প্রদানের সময়সীমা এক মাস বাড়াতে পারবে। অন্যথায় খেলাপি সদস্য বা খেলাপি সদস্য সংগঠন হিসেবে গণ্য করে অধিভুক্তি স্থগিত করবে। 

কমানো হয়েছে সুবিধা: আগের তুলনায় বাণিজ্য সংগঠনের সুবিধা কমানো হয়েছে। বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-১৯৯৪ অনুসারে বাণিজ্য সংগঠনগুলো সাত ধরনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারত। এখন থেকে সে সুবিধা কমে তিনটিতে আনা হয়েছে। খসড়া বিধিমালা এবং ১৯৯৪ সালের বিধিমালা অনুযায়ী যেসব সুবিধার বিষয়ে উল্লেখ নেই সেগুলো হলো বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ জানানো, প্রজ্ঞাপন ও সার্কুলারের কপি সরবরাহ, কোনো বিশেষ পণ্যের উৎস, পরিমাণ ও ওজন সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র, বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের অনুমতি, বিদেশে ব্যবসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিদেশী পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের পারিশ্রমিক প্রদান। 

কোনো বাণিজ্য সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ না করলে ‘সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দুই বছরের যৌথমূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল না করতে পারলে, বার্ষিক সাধারণ সভার বিজ্ঞপ্তি, নির্বাচনের তফসিল, কমিটির পূর্ণ তালিকা, পরিবর্তিত অফিস ঠিকানা মহাপরিচালকের কাছে না পাঠালে এবং কোনো সভায় কারণ দর্শানো ব্যতীত অনুপস্থিত থাকলে ওই সংগঠনকে সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন বলা হবে। বিধিমালার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা খসড়াটি সম্পন্ন করেছি। এখন খসড়ার ওপর অংশীজনের মতামত নেয়া হচ্ছে।’