এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে সামান্য কমলেও বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম এখনো গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্স।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গতকাল তাদের মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, মে মাসে এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স বা খাদ্যমূল্য সূচক ছিল গড়ে ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্ট। এটি এপ্রিলের সংশোধিত সূচক ১৩১ পয়েন্টের চেয়ে দশমিক ২ শতাংশ কম। তবে গত মে মাসের এ সূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
এফএও কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব খাদ্যবাজার বর্তমানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সম্প্রতি খাদ্যশস্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে এ খাত আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খরচের পরিবর্তনের ওপর কতটা নির্ভরশীল। তারা আরো সতর্ক করেছেন, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পরিবহন রুটগুলোতে চলমান অস্থিরতার কারণে সার ব্যবহার কমে যেতে পারে। এটি আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরো বাড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে এপ্রিলের তুলনায় খাদ্যশস্যের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে গমের দাম টানা চতুর্থ মাসের মতো বেড়েছে। মে মাসে গমের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কায় গমের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও সারের উচ্চমূল্য এ মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এশিয়ার শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোতে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সঙ্গে জোরালো আমদানি চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে ভুট্টার দামও বেড়েছে।
অন্যদিকে মে মাসে ভোজ্যতেলের দামের সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছর ভোজ্যতেলের দাম কমার ঘটনা এটিই প্রথম। পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দাম কমায় সামগ্রিকভাবে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে, যদিও এ সময়ে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় জ্বালানি খরচ বেড়েছে। ফলে জৈব জ্বালানি তৈরিতে তেলজাতীয় উদ্ভিদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের গড় দাম এখনো গত বছরের চেয়ে ২০ শতাংশেরও ওপরে অবস্থান করছে।
এদিকে মে মাসে চিনির দামের সূচক এক লাফে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। আগামী মাসগুলোতে বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এ দাম বেড়েছে। বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে এবার আখের একটি বড় অংশ চিনি তৈরির পরিবর্তে ইথানল উৎপাদনের দিকে চলে যাবে—এমন পূর্বাভাসের কারণেই মূলত দাম বেড়েছে।
অন্য পণ্যের মধ্যে মাংসের বাজারে দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে মাখনের দাম কমে যাওয়ায় দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ।
আলাদা একটি প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এ সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন ২ শতাংশ কমে ২৯৮ কোটি টনে নেমে আসতে পারে। এর আগের মৌসুমে অবশ্য খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩০৪ কোটি টনে পৌঁছেছিল। আগামী মৌসুমে প্রায় সব ধরনের প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমতে পারে, যার মধ্যে গমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।










