টেসলা ও কম দামের চীনা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে চায় ফোর্ড। তাই কম দামের ইভি উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে এ মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যেই নকশা তৈরিতে কাজ শুরু করেছে দক্ষ প্রকৌশলীদের একটি দল। খবর সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত ব্যাটারি ও প্রযুক্তিগত কারণে ইভির উৎপাদন খরচ বেশি, যার প্রভাব পড়ে বাজারমূল্যেও। মূলধারার অটো ব্র্যান্ডগুলোর ইভির দাম সাধারণত বেশিই থাকে। যেমন ফোর্ডের মাসট্যাং ম্যাক-ইর প্রারম্ভিক দামই ৪৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা)। সব মিলিয়ে ইভির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকলেও দিন শেষে প্রচলিত ধাঁচের গাড়িই বিক্রি হয় বেশি। এখনো অডি, মার্সিডিজ বা ক্যাডিলাকের মতো অটোমেকাররা বেশি মুনাফা অর্জন করে।
বিশ্লেষকরাও বলছেন, উচ্চমূল্যে ইভির বিক্রি বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইভির বাজার বৃদ্ধি মন্থর হওয়ার অন্যতম কারণ এর উৎপাদন খরচ। পুরনো গাড়ি বিক্রি করে এমন সংস্থা কক্স অটোমোটিভের তথ্যানুসারে, ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। ২০২৩ সালে ইভির বিক্রি ৪৯ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু আগের বছরের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫২ শতাংশ।
গবেষণা সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মোবিলিটির এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষই মনে করেন ইভির দাম অনেক বেশি। এ দাম নাগালের মধ্যে আসা উচিত। এ সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি বিশ্লেষক ইয়ানিনা মিলস জরিপ সম্পর্কে বলেন,‘বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির জন্য মূল্য নির্ধারণ এখনো সবচেয়ে বড় বাধা।’
এসব পরিপ্রেক্ষিতেই ফোর্ডের একটি দল দুই বছর ধরে সাশ্রয়ী ইভির জন্য কাজ করছে বলে জানান ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিম ফার্লে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা কম খরচে ইভি প্লাটফর্ম তৈরি করার জন্য প্রতিভাবান একটি দল তৈরি করেছি।’
ফোর্ডের প্রকৌশলী দলটি নতুন ডিজাইনের জন্য প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর কাজের দিকেও নজর রেখেছে। তারা নতুন ইভির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের দিকে লক্ষ্য রাখছে। এ দিক থেকে জেনারেল মোটরসের আল্টিয়াম বা হুন্দাই মোটর গ্রুপের ই-জিএমপি প্লাটফর্ম কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। ২০২২ সালে নিয়োগ পাওয়া ফোর্ডের দলটির নেতৃত্বে আছেন প্রকৌশলী অ্যালান ক্লার্ক। টেসলায় ১২ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে এ মুহূর্তে প্রকৌশলী দলটি ও তাদের নকশা সম্পর্কে বেশি কিছু জানাতে অস্বীকার করেছেন ফোর্ডের একজন মুখপাত্র।
এর আগে ২০২১ সালে ইভি নিয়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে ফোর্ড। অটো জায়ান্টটি তখন জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপে যত গাড়ি বিক্রি করবে তার সবই হবে বিদ্যুচ্চালিত। সে লক্ষ্যেই দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে তারা।










