আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। এর জের ধরে আমদানিকারক দেশগুলো জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছে। বেড়েছে রফতানিকারক দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের মার্চে ইরাক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির সম্মিলিত রফতানি সাড়ে ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। ইরাকের জ্বালানি তেলবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ইরাকের অবস্থান ষষ্ঠ। একই সঙ্গে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল রফতানিকারক। ইরাকের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১০ কোটি ৫১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। দৈনিক হিসাবে এর পরিমাণ গড়ে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল। এ সময় জ্বালানি পণ্যটি রফতানি করে ইরাক মোট ৩০০ কোটি ডলার আয় করেছে। মাস শেষে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ২৮ ডলার ৪৩ সেন্ট।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে ইরাকের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের তেল কূপগুলো থেকে বসরা বন্দর হয়ে সব মিলিয়ে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলীয় কিরকুক থেকে ভূমধ্যসাগরের তার্কিশ বন্দর চেহান হয়ে রফতানি হয়েছে ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। ইরাকের কিরকুক অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিন ধরে কুর্দিশ যোদ্ধাদের আধিপত্য বজায় রয়েছে।
এ সময় ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ নিনেভেহর কোয়ারা অয়েল ফিল্ড থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪১ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তেল কূপগুলো গত মার্চে প্রতিবেশী জর্ডানে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৪০ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরাকের আয়ের বড় একটি অংশ আসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করে। এটি ইরাকের প্রধান রফতানি পণ্য।









