বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কৃষি খাত এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের আরো দক্ষ ও আধুনিক পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, চরম আবহাওয়ার ধাক্কা সামলানোর জন্য ফসলি জমিকে আগে থেকেই প্রস্তুত করতে হবে। এতে কেবল আবাদি জমিই রক্ষা পাবে না, বরং বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি থেকেও বাঁচা যাবে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার কৃষি খাত। দিন দিন পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ধান, গম ও ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন। অসময়ে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরা এখন নিয়মিত ঘটনা। হঠাৎ বন্যায় পাকা ফসল তলিয়ে যায়, আবার খরার কারণে সময়মতো বীজ বপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এসবের সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে।
বিশ্লেষণ বলছে, বিশ্বের অন্য অঞ্চলের মতো ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকায়ও পানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সব খাতের মধ্যে কৃষিখাতেই সবচেয়ে বেশি পানি ব্যবহার ও অপচয় হয়। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব নেপলস ফেদেরিকো দ্বিতীয়র কৃষি হাইড্রোলিকস ও সেচ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক গুইডো ডি’উর্সো এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলা ও মাটির দুর্বলতা আগে থেকে শনাক্ত করার সব প্রযুক্তি এখন আমাদের হাতে রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি অঞ্চলে কতটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে ও তা কোন খাতে (জনসাধারণ, শিল্প নাকি কৃষি) ব্যবহার হচ্ছে, তা সবাই স্পষ্ট জানতে পারব। এতে পানি বণ্টননীতি আরো স্বচ্ছ হবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন বা তরুণ প্রজন্ম এ বিষয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। তরুণদের মানসিকতাকে কৃষির রূপান্তরে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।
পুরনো প্রজন্মের তুলনায় তরুণ কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক বেশি পারদর্শী। কৃষির প্রতিটি ধাপে, বিশেষ করে পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা সম্ভব। তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে ‘ডেটা-ড্রিভেন’ বা তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রতিবেদনে বলা আছে, এখন খরা সহনশীলতা বাড়াতে খামার পর্যায়ে ছোট ছোট উদ্যোগ ও প্রাকৃতিক সমাধানের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের ড্রিপ সেচ (ফোঁটা ফোঁটা সেচ) ও ভূগর্ভস্থ সেচ পদ্ধতিতে উৎসাহিত করা উচিত। এসব পদ্ধতি পানির বাষ্পীভবন রোধ করে। এছাড়া রিমোট কন্ট্রোল বা দূর নিয়ন্ত্রিত পাইপলাইনের মাধ্যমে মাঠের পানির সরবরাহ সার্বক্ষণিক তদারক করা সম্ভব। এসব প্রযুক্তির যৌথ ব্যবহার সেচকাজে পানির অপচয় রোধে এক বিশাল বিপ্লব ঘটাতে পারে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হলেও তা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না। গবেষক ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ, যারা ল্যাবরেটরির জ্ঞানকে সহজ ভাষায় কৃষকদের বোঝাবেন ও তাদের নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করবেন।










