শেভরন বাংলাদেশ ও গ্রিন সেভার্সের যৌথ অংশীদারত্বে চালু হয়েছে কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ ‘ট্রি গার্ডিয়ানশিপ প্রোগ্রাম’। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে কোম্পানির কার্যক্রম-সংলগ্ন এলাকায় সবুজের পরিধি বাড়ানো এবং স্থানীয় পরিবারগুলোর কল্যাণে সহায়তা করাই এ প্রোগ্রামের লক্ষ্য। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। শেভরন বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
এ উদ্যোগের আওতায় ফসল পঞ্জিকা অনুসরণ করে প্রতিটি ‘ট্রি গার্ডিয়ান’ পরিবারকে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, লেবু, আমড়া, আতা, আমলকী ও বরইয়ের মোট ১০টি ফলদ গাছের চারা দেয়া হবে। সর্বমোট ৩ হাজার ১৯০টি ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হবে। গাছ লাগানোর উপযোগী জায়গা ও দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার সক্ষমতা বিবেচনায় মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিবারগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার নিজ বাড়ির আঙিনায় চারা রোপণ, সুরক্ষা ও নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ। এ সময় শেভরন বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস) কায়লি নাইট হোল্ডার; করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর মুহাম্মদ ইমরুল কবির; কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও সাসটেইনেবিলিটি প্রধান একেএম আরিফ আক্তার এবং গ্রিন সেভার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান রনি উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ এ সময় তিনি সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের মাধ্যমে আরো সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শেভরন বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর মুহাম্মদ ইমরুল কবির বলেন, ‘প্রতিবেশী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একযোগে কাজ করে পরিবেশের দায়িত্বশীল সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর জন্য অর্থবহ সুফল সৃষ্টিতে আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এ উদ্যোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের এ কর্মসূচির কেন্দ্রে রাখার মাধ্যমে আমরা গাছগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্ববোধ আরো জোরদার করতে চাই।’
কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস) কায়লি নাইট হোল্ডার বলেন, ‘শেভরন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, যেসব এলাকায় আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করি, সেখানকার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্বই নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনার ভিত্তি। ট্রি গার্ডিয়ানশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা পরিবেশের দায়িত্বশীল সুরক্ষা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী মূল্য সৃষ্টিতে একসঙ্গে কাজ করছি।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ উদ্যোগের আওতায় ‘ট্রি গার্ডিয়ান’দের মাটি প্রস্তুত, চারা রোপণ, গাছের পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ পরিচর্যা পদ্ধতি গাছগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোর পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও সম্ভাব্য সম্পূরক আয়ের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।










