যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। জুলাইয়ে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ১৯৮২ সালের পর সর্বোচ্চ। জুনের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির গতি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপকে আরো তীব্রতর করেছে। ফলে দেশটিতে মন্দার ঝুঁকিও জেঁকে বসছে।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, অর্থনীতিবিদরা গত মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। যদিও প্রকৃত হার পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। এদিকে মন্দার ঝুঁকি সত্ত্বেও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই) আক্রমণাত্মকভাবে সুদের হার বাড়িয়ে চলেছে। চলতি মাসের শুরুতে বিওই সুদের হার দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। এ নিয়ে ১৯৯৫ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে সুদের হার এক লাফে অর্ধপয়েন্ট বেড়েছে। বিওই পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশের চূড়ায় পৌঁছতে পারে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এবিআরডিএনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লুক বার্থলোমিউ বলেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বিওইর মুদ্রাবাজার কঠোর করার পদক্ষেপ মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। যদিও এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিছু হটবে বলে মনে হচ্ছে না। আগামী সেপ্টেম্বরের বৈঠকে বিওই আরো একবার অর্ধেক পয়েন্ট বাড়িয়ে সুদের হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করবে বলে আশা করছি।

গতকাল প্রকাশিত অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের পরিসংখ্যান অনুসারে, জুলাইয়ে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও কেবল যুক্তরাজ্যই যে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি মুখোমুখি হচ্ছে তা নয়। বিশ্বজুড়েই মূল্যস্ফীতির চাপ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আবার কিছু কিছু দেশে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা ধীর হওয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি জুনে ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পর জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাবি বলেন, মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। বিওইর আশঙ্কা, চলতি বছরের শেষ দিকে ব্রিটিশ অর্থনীতি অগভীর মন্দায় পড়তে পারে। তবে আগামীতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে শুরু করবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও উৎপাদন মূল্যস্ফীতি ১৭ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ হার ১৯৭৭ সালের পর সর্বোচ্চ। কারখানাগুলোর মুখোমুখি হওয়া মূল্যস্ফীতির হার ধীর হচ্ছে। এটি জুনের ২৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে গত মাসে ২২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে।

গত মাসে উৎপাদন ব্যয় মাত্র দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ২০২২ সালের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধীর বৃদ্ধি। যদিও এক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে চাহিদা দুর্বল হওয়ার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুসারে, যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি সমস্যা অন্য দেশের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হবে। শিল্প বিশ্লেষক কর্নওয়াল ইনসাইটের মতে, বর্তমানে সাধারণ পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি বিল ২ হাজার পাউন্ড। এটি এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ বিলের পরিমাণ আগামী জানুয়ারিতে ৪ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এমনটা হলে লাখ লাখ ব্রিটিশ পরিবার উচ্চব্যয় মেটাতে হিমশিম খাবে। এরই মধ্যে সুপারমার্কেটগুলো বলছে, ভোক্তারা দামি ব্র্যান্ড ছেড়ে সস্তা ব্র্যান্ডে ঝুঁকছেন।