বিশ্ববাজারে
বুকিং দর নিম্নমুখী হলেও
ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় স্থির রয়েছে দেশের পণ্যবাজার। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ভোজ্যতেল, গম ও চিনির
দাম দুই মাস ধরে একই অবস্থায় লেনদেন হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আমদানি মূল্য কম হলেও দেশের
বাজারে দর সমন্বয় না
হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামেই নিত্য এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বতর্মানে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকায়। এছাড়া সুপার পাম অয়েল প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকায়, সয়াবিন লেনদেন হচ্ছে ৬ হাজার ৫০০ টাকায়।
অন্য দিকে মণপ্রতি পরিশোধিত চিনি লেনদেন হচ্ছে ৪ হাজার টাকায়, গম (ভারতীয়) মণপ্রতি ১ হাজার ৯২০ থেকে ১ হাজার ৯৩০ টাকায় ও কানাডিয়ান গম লেনদেন হচ্ছে ২ হাজার ৪২০ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়।
কয়েক মাস ধরে পাইকারি বাজারে নিত্য এসব ভোগ্যপণ্যের দাম মণপ্রতি ২০-৫০ টাকায় ওঠানামা করলেও এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে পণ্যগুলোর দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি ছাড়াও উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক পণ্যবাজারের দাম নিম্নমুখী। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়, শিপিং চার্জ কমে যাওয়ার ঘটনায় বৈশ্বিক পণ্য বাজার কমছে। বিশ্ববাজার থেকে বর্তমানে কম দামে আমদানি করলেও দেশীয় ব্যবসায়ীরা মিল পর্যায় থেকে পণ্যের দাম কমাতে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করছে। ফলে বিশ্ববাজারে কমলেও দেশের বাজারে পণ্যগুলোর দাম এখনো কমেনি।
সংশ্লিষ্ট বিষ খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক মো. ছগীর আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দাম কমলেই দেশের বাজারে সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের দাম সমন্বয় হবে সেটি ঠিক নয়। ঋণপত্র খোলার পর আমদানি হয়ে পরিশোধন পর্যন্ত এক থেকে দেড় মাস সময় প্রয়োজন।’ তবে রোজার মাসে পণ্যের বাড়তি চাহিদাজনিত কারণে দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও এ বছর সেভাবে দাম বাড়েনি। আমদানি মূল্য কমে যাওয়ায় ঈদের পর চাহিদা কমে গেলে দাম সমন্বয় হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেই ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কাছে আবেদনের মাধ্যমে অতি নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে আবেদন করে। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয় না। সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের দিকে তাকিয়ে না থেকে ট্যারিফ কমিশনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য পর্যালোচনা সাপেক্ষে দাম সমন্বয় করতে ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অপরিশোধিত সয়াবিনের মাসভিত্তিক দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪০৯ ডলার। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে সয়াবিনের দাম কমে ১ হাজার ২৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ২০২২ সালের জানুয়ারি-মার্চে ছিল গড়ে ১ হাজার ৫৪৮ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে সেটি লেনদেন হয়েছে ৯৫০ ডলারে। গমের দাম টনপ্রতি ২০২২ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে ছিল গড়ে ৪১৬ ডলার। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে গমের দাম ছিল গড়ে ৩৯৪ ডলারে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে চিনির দামও আগের সময়ের তুলনায় কম দামে লেনদেন হয়েছে বিশ্ববাজারে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকারের নজরদারি ও মনিটরিং না থাকায় আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বেশি রেখেই বিক্রি করছেন। দেশে মুষ্টিমেয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অতি নিত্য ভোগ্যপণ্য বাজার নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় পণ্যের দাম কমলেও দেশের বাজারে প্রভাব পড়ছে ধীরগতিতে। এজন্য বড় আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের বিশেষ নজরদারি দাবি করেছেন তারা।










