শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিইউ) এবং টালো বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (টিবিইউ) শনিবার বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগকৃত জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কর্মীদের অধিকার এবং স্বার্থ খর্ব করে শ্রম আইন এবং শ্রম আইন সংশোধনের সরকারি পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিবিইউ এবং টিবিইউ বলেছে যে, সরকার স্বার্থান্বেষী মহলকে সুবিধা দিতে শ্রমিকদেরকে তাদের বৈধ ৫ শতাংশ ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।
সিবিইইউর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূর-ই-আলম সিদ্দিক লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। এসময় সিবিইইউর সভাপতি মোস্তফা সোহেল ইকবাল, টিবিইইউ'র সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন আল রশিদ, জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শদাতা পরিষদের (টিসিসি) শ্রম প্রতিনিধি রুহুল আমিন, নাজমা আখতার, বাবুল আখতার, খোরশেদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক নেতারা বলেন, সমগ্র জাতির দৃষ্টি যখন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিকে, তখন সরকার, বিশেষ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, তাড়াহুড়ো করে শ্রম বিধিমালা এবং শ্রম আইন সংশোধনের চেষ্টা করছে।
লিখিত বিবৃতিতে সিবিইইউর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূর-ই-আলম সিদ্দিক বলেন, ‘সরকার শ্রমিক নেতাদের মতামত ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সংশোধনী প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে।‘
তিনি বলেন, সিবিইইউ এবং টিবিইইউ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, এটি কোনো নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয় বরং জাতীয় শ্রমিকদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
এই পদক্ষেপকে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে সিবিইইউ নেতা বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে শ্রম আইন সংশোধনের একমাত্র উদ্দেশ্য কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এবং কোম্পানিকে অন্যায্য সুবিধা দেয়া।‘
তিনি আরো বলেন, জাতীয় স্বার্থ, ন্যায়বিচার এবং আইনি বাধ্যবাধকতার আলোকে, সিবিইইউ এবং টিবিইইউ বিচারাধীন বিষয়ে শ্রম আইন বা শ্রম বিধি সংশোধনের সমস্ত উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানায়। ‘অন্যথায়, আমরা সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলব’, তিনি বলেন।
বাংলাদেশের শ্রম আইনের অধীনে, যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো আইনত তাদের বার্ষিক নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণ এবং ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য শ্রমিকদের লাভ অংশগ্রহণ তহবিলে (ডব্লিউপিপিএফ) বরাদ্দ করতে বাধ্য। বাংলাদেশে অসংখ্য দেশী-বিদেশী কোম্পানি এরইমধ্যে এই প্রয়োজনীয়তা মেনে চলে। এমনকি জাতীয় পর্যায়ের গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং বিতরণ সংস্থাগুলোও বহু বছর ধরে আইন অনুসারে ডব্লিউপিপিএফ প্রদান করে আসছে।










