রংপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে স্বল্প পরিসরে নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। তবে এতে দামের উপর এখনো তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এখনো পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি। তবে জেলার উৎপাদিত আলু পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু হলে দাম নিম্নমুখী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্য বলছে, ২০২২ সালে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১৮-২০ টাকা দরে। চলতি বছর দাম কমলেও গত বছরের স্তরে নামার সম্ভাবনা দেখছেন না খাতসংশ্লিষ্টরা।
রংপুর সিটি করপোরেশন বাজারে থাকা বেশকিছু বৃহৎ আড়তের কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) থেকে বস্তাপ্রতি কমিশন দিয়ে আলু কিনে নেন বিক্রেতারা। হাজী সেলিম বাণিজ্যালয়ের (আড়ত) স্বত্বাধিকারী হাজী মো. সেলিম বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরের এ সময় আলু বিক্রি হয়েছে ১২ টাকা কেজি দরে। এ বছর প্রতি কেজি পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়। অথচ প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ হয়েছে ১০ টাকা এবং স্টোরেজ খরচসহ ১৮ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।’ তিনি বলেন, উৎপাদন মৌসুমে যেসব ব্যবসায়ী আলু কিনে স্টোরেজ (হিমাগারে) করেছিল তারা এখন সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে।’ চলতি মৌসুমে ওঠা নতুন আলো এখন পাইকারি পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার খুচরা পর্যায় প্রতি কেজি আলুর মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। রংপুরে অবস্থিত সিটি করপোরেশন বাজার, মুলাটোল বাজার, কামাল কাচনা বাজার, কেরানী পাড়া চৌরাস্তা বাজার, ধাপ বাজার, সিও বাজারসহ একাধিক বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলুর দামের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি খুচরা পর্যায়ে। এসব বাজারে পুরনো আলু ৫৫-৬০ টাকায় এবং নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়।
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মের তোয়াক্কা নেই। কোল্ড স্টোরেজের মালিকরা বলছেন খুচরা পর্যায়ে গিয়ে কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা পার্থক্য হয়ে যায়। তবে পাল্টা অভিযোগ করে খুচরা বিক্রিতারা জানিয়েছেন, কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলুর দাম বেশি রাখায় তারা নিরুপায়। স্টোরেজে আলু কমে যাওয়ায় হিমাগার থেকেই ৪৮ টাকায় বিক্রির অভিযোগ করেছেন তারা। এমন অবস্থায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শহরের ৩৯টি কোল্ড স্টোরেজে ৪ লাখ ৬ হাজার ৩১৫ টন আলু ধারণক্ষমতা রয়েছে। এসব কোল্ড স্টোরেজে খাবার আলু মজুদ আছে ১ হাজার ৫২১ টন এবং বীজ আলু ৮ হাজার ৮৬ টন। এর মধ্যে মৌসুমে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টন। কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন আলু বের হয় কম-বেশি এক হাজার বস্তা (৫৫-৬০ টনের সমপরিমাণ)।
রংপুর বিভাগীয় হিমাগার মালিক সমিতির সদস্য সচিব ও জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু বলেন, ‘আলু উৎপাদন কম হওয়ায় মৌসুমের শুরুতে জেলার হিমাগারগুলোর ২০-২৫ ভাগই পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে খাওয়ার আলু তেমন নেই বললেই চলে। ফলে বর্তমানে চাহিদা মোতাবেক আলু সরবরাহ করতে না পারায় আলুর দাম বাড়ছে।’










