যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রিয়েটিভপুল অ্যানুয়াল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ দুটি সিলভার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে স্টারকম বাংলাদেশ। স্যামসাংয়ের জন্য তৈরি ‘অ্যান অ্যাড দ্যাট ইরেজেস অ্যাডস’ প্রচারণার জন্য এ স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রচারণাটি যে দুটি বিভাগে অংশ নিয়েছিল, দুটিতেই সিলভার পেয়েছে স্টারকম বাংলাদেশ। এবারের আয়োজনে ওই দুই বিভাগে সিলভারই ছিল সর্বোচ্চ পুরস্কার।

স্যামসাংয়ের মধ্যম সারির এ সিরিজের স্মার্টফোনে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অবজেক্ট ইরেজার মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরাই ছিল এ প্রচারণার লক্ষ্য। তবে এ সুবিধা বোঝাতে গতানুগতিক বিজ্ঞাপনের পথ নেয়নি স্টারকম বাংলাদেশ। এমন একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়, যা নিজেই দেখিয়ে দেয় অবজেক্ট ইরেজার কীভাবে কাজ করে।

প্রচারণার ওয়েবসাইটে থাকা বিজ্ঞাপনগুলো ব্যবহারকারীরা চাইলে চিহ্নিত করে মুছে ফেলতে পারতেন। স্যামসাংয়ের অবজেক্ট ইরেজার যেমন ছবির অপ্রয়োজনীয় কোনো বস্তু সরিয়ে দেয়, এ প্রচারণাতেও একইভাবে বিজ্ঞাপন মুছে ফেলার সুযোগ রাখা হয়। ফলে সুবিধাটি কীভাবে কাজ করে, তা আলাদাভাবে বোঝানোর বদলে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই তা করে দেখতে পারতেন।

এ ধারণার মাধ্যমে একটি জটিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধাকে সহজে বোঝানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের বাড়তি ভিড়কেও প্রচারণার অংশ হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছে। ওয়েবসাইট, সেখানে থাকা বিজ্ঞাপন এবং ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণ, সবকিছু একসঙ্গে কাজ করেছে অবজেক্ট ইরেজারের কার্যকারিতা তুলে ধরতে।

ক্রিয়েটিভপুলের এ স্বীকৃতি প্রচারণাটির ধারাবাহিক সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে কমওয়ার্ড ও ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ একই প্রচারণার জন্য মোট নয়টি পুরস্কার পেয়েছে স্টারকম বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় এ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরো শক্ত করেছে।

বৈশ্বিক স্টারকম নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পাবলিসিস মিডিয়া ও বিটোপি গ্রুপের সঙ্গে কাজ করছে স্টারকম বাংলাদেশ। গণমাধ্যম, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য আরো অর্থবহ ও কার্যকর অভিজ্ঞতা তৈরিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ অর্জন নিয়ে স্টারকম বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারাহ আলী বলেন, মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ তৈরি করে এবং বিজ্ঞাপনের জগতে নতুন কিছু যোগ করে, এমন কাজ করাই তাদের সবসময়কার লক্ষ্য। এ স্বীকৃতি পুরো দলের জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনের জন্যও আনন্দের খবর বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশের মাটিতে তৈরি ভালো ধারণাও বিশ্বের সেরা কাজগুলোর সঙ্গে জায়গা করে নিতে পারে, এ অর্জন তার প্রমাণ বলেও জানান তিনি। এ স্বীকৃতি বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রতিভাদের আরো আত্মবিশ্বাসী করবে এবং দেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে আরো সাহসী ও নতুন ধরনের কাজ করতে উৎসাহ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্টারকম বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহমেদুন ফায়েজ বলেন, স্টারকম বাংলাদেশ এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেয়েছে। ধারাবাহিক এ সাফল্য ভালো মানের কাজ করার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও চেষ্টা ধরে রাখার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ক্লায়েন্ট ও অংশীদারদের নিয়মিত সহযোগিতা ও আস্থার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ সহযোগিতাই তাদের আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।

প্রচারণাটি নিয়ে স্টারকম বাংলাদেশের পরিচালক আরএইচ সজীব বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো একটি সুবিধাকে কীভাবে এমনভাবে তুলে ধরা যায়, যাতে সেটি মানুষের কাছে আরেকটি সাধারণ সুবিধা মনে না হয়, বরং সত্যিকার অর্থে কাজে লাগে এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে, সে চিন্তা থেকেই কাজটি শুরু হয়েছিল।

তিনি জানান, পুরো কাজটি ছিল দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শুরুতে ধারণা তৈরি করা থেকে শুরু করে সেটি তুলে ধরার জন্য সঠিক গণমাধ্যমের মাধ্যম খুঁজে বের করা, প্রযুক্তি ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। মানুষের খুব সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া ভাবনাকে এমন কিছুতে পরিণত করতে চেয়েছেন, যা মানুষ শুধু দেখবে না, নিজেরাও অনুভব করতে পারবে। এ স্বীকৃতি পুরো দলের সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ক্রিয়েটিভপুলে স্টারকম বাংলাদেশের এ সাফল্য অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৪ আল্ট্রার জন্য তৈরি ‘সামারিজ, জাস্ট লাইক দ্যাট!’ প্রচারণার জন্যও ক্রিয়েটিভপুলে স্বীকৃতি পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

দুটি প্রচারণাতেই পণ্যের সুবিধাকে শুধু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তুলে ধরার বদলে মানুষের সামনে সরাসরি অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। পণ্যের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে সহজ ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতায় রূপ দেয়ার এ ধারাবাহিকতাই স্টারকম বাংলাদেশের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

—বিজ্ঞপ্তি