চলমান নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও টানা সরকারি ছুটিতে অস্থির হয়ে উঠেছে পচনশীল মসলাপণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এর মধ্যে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম উঠেছে ৩০০ টাকায়। খুচরা বাজারে ৩৫০-৩৬০ টাকা। বন্দরে পণ্যজট ছাড়াও সড়কপথে সরবরাহ কমতে থাকায় এসব নিত্যপণ্যের দাম ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় সব ধরনের কাঁচা মসলা পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ সময়ে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩২-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫-৬৫ টাকায় উঠেছে। এছাড়া রসুনের দামও কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। সরবরাহ না বাড়লে দাম আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদার চাহিদা। সেই তুলনায় বাড়েনি পণ্যটির সরবরাহ। দেশে বার্ষিক আদার চাহিদার অর্ধেকই পূরণ হয় দেশীয় উৎপাদন থেকে। দেশের তিন পার্বত্য জেলায় প্রতি বছর গড়ে ৫০ হাজার টন আদা উৎপাদন হয়। চাহিদা পূরণ করতে বাকি আদা আমদানি হয় চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। নভেল করোনাভাইরাসজনিত কারণে গত এক মাস ধরে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে আছে। তার ওপর আমদানি সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য খালাস বিলম্বিত হওয়ায় দেশের বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চীন থেকে আমদানি করা আদা বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ২৮০-৩০০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে এসে এসব আদা স্থানভেদে ৩৫০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের মেসার্স বাঁচা মিয়া বাণিজ্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. আইয়ুব বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পণ্যের সরবরাহ কম। প্রতিদিন ২০-২৫ ট্রাক পেঁয়াজের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে সর্বোচ্চ আট ট্রাক। এছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। এ কারণে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চীন থেকে মসলা পণ্য আমদানিতে ধীরগতির কারণে আদা ও রসুনের দাম ক্রমেই বাড়ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর শবেবরাতের পর এমনিতে মসলাজাতীয় পণ্য ও ডালের দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর ওপর আসন্ন রোজার কারণে মসলা পণ্যের চাহিদাও বেশি। এসব কারণে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বাজার অস্থির হয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া, শ্রমিক সংকট ও সরবরাহ সংকট কমানো না গেলে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হওয়ার ঝুঁকি দেখছেন পণ্যবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে খাতুনগঞ্জের পাশাপাশি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারেও বাড়তে শুরু করেছে মসলা পণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে আদার দাম। গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয় ১৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এক সপ্তাহ আগে হিলির পাইকারি বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গতকাল পণ্যটির বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৫০-৫৫ টাকায়। সপ্তাহ খানেক আগে প্রতি কেজি রসুন ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা বেড়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
হিলির ব্যবসায়ী শাকিল খান বণিক বার্তাকে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে দেশের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন বেশি উৎপাদন হয়, সেসব এলাকায় হাটগুলো সেভাবে বসতে পারছে না। ফলে বাজারে পণ্যগুলোও ঠিকমতো আসতে পারছে না। এ কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় মসলা পণ্যের সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম বাড়ছে। এছাড়া বিদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। এটাও সরবরাহ কমার বড় একটি কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে সরবরাহ বেড়ে আদাসহ সব ধরনের মসলাপণ্যের দাম কমে আসতে পারে।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বণিক বার্তার হিলি প্রতিনিধি









