দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি মসৃণ ও নিরবচ্ছিন্ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যে বড় আকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায় নাই। দেশের কোনো এক এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য যখন খুচরা বাজারে আসে ২০০-২৫০ কিলোমিটার দূরে; সিটি করপোরেশন অথবা রাজধানীতে, অনেক সময় দেখা যায় যে উৎপাদন পর্যায়ের মূল্য আর খুচরা বিক্রয় পর্যায়ের মূল্যের মধ্যে ব্যবধানটা গ্রহণযোগ্য হয় না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) মিলনায়তনে গতকাল সংস্থাটির ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান ও টিসিবি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ১৮-২০ কোটি মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বা এর কাছাকাছি রয়েছে। এ কারণে টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তুকির এ অর্থ জনগণের।’ এজন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সঠিক ব্যক্তি, পরিবার ও উপকারভোগীর কাছে পণ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় টিসিবির উপকারভোগীর সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ৭৯ লাখ।

তিনি জানান, টিসিবি ডিজিটাল ডেটাবেজ, সিকিউরড ডিজিটাল কার্ড, সেলফ অ্যাক্টিভেশন, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অনলাইনে ডিলার পেমেন্ট সংগ্রহ, এআই-ভিত্তিক রিয়েল টাইম মনিটরিং, অল ইন ওয়ান পিওএস, এআই-ভিত্তিক কন্ট্যাক্ট সেন্টার ও ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘“‍উপকারী” অ্যাপটি টিসিবির বিদ্যমান কার্ডের বিকল্প নয়; বরং অতিরিক্ত নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যম। কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও প্রকৃত উপকারভোগী যাতে প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন, সে ব্যবস্থাও এতে রাখা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আবেদন, তথ্য ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে। ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচনেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়া এবং ব্যবস্থাপনাকে আরো দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক করা। ম্যানুয়াল ব্যবস্থা থেকে কার্ড, ডিজিটাল ডেটাবেজ, ডিজিটাল কার্ড এবং পিওএস ব্যবস্থায় যাওয়ার ফলে সেবার মান ও স্বচ্ছতা বাড়বে।’ প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত নন এমন মানুষ যাতে বাদ না পড়েন, সেদিকেও নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তিগত, নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে টিসিবির সেবাগুলোকে ধীরে ধীরে পুরোপুরি ডিজিটাল করা, ৬৪ জেলায় প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।’ ডিজিটাল পেমেন্ট, অর্থ সংগ্রহ ও কার্ড নবায়নের মাধ্যমে মানবিক ত্রুটি কমবে এবং সেবার মান ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

টিসিবি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে বহু অযোগ্য উপকারভোগী বাদ দেয়া হয়েছে। সেলফ অ্যাক্টিভেশনে ওটিপি, অ্যাপভিত্তিক ফেস ভেরিফিকেশন ও লাইভ ছবি যাচাই করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ নিজেদের কার্ড সেলফ অ্যাক্টিভেশন করেছেন। এতে বোঝা যায়, ৫০-৬০ শতাংশ উপকারভোগী ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে সক্ষম।’