জাপানকে ছাড়িয়ে আবারো বিশ্বের শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে চীন। কভিড-১৯ প্রতিরোধে দেয়া বিধিনিষেধ শিথিল করায় দেশটিতে জ্বালানিটির চাহিদা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে গত মাসে আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। খবর আরটি।
চীনের শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে,
গত মাসে দেশটি
সব মিলিয়ে ৬৪ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা জানুয়ারির তুলনায় বেশি। তবে বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৪ লাখ ৮০ হাজার
টন কমেছে। ওই সময় দেশটি ৬৯ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছিল। এদিকে গত মাসে জাপান
আমদানি করেছে ৫০ লাখ ৯০ হাজার টন। অর্থাৎ চীনের চেয়ে দেশটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টন কম
আমদানি করেছে।
চীনের সরকারি তথ্য-উপাত্ত বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত দেশটি সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টন
এলএনজি আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ২০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
গত মাসে চীন পাইপলাইনের মাধ্যমে ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে। গত
বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। বছরের ১১ মাসে পাইপলাইনের
মাধ্যমে আমদানি ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ
২০ হাজার টনে।
চীন গত বছর প্রথমবারের মতো জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক
হয়ে ওঠে। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে কভিড-১৯-সংক্রান্ত কঠোর
বিধিনিষেধের কারণে আমদানি কমতে শুরু করে। এতে জাপানের কাছে শীর্ষস্থান হারায়
দেশটি। তবে গত মাসে আবারো বিপুল পরিমাণ আমদানির মধ্য দিয়ে জাপানকে পেছনে ফেলেছে
দেশটি। বর্তমানে রাশিয়া থেকেই সবচেয়ে বেশি এলএনজি আমদানি করছে চীন। দেশটি ইউরোপে
সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় সুবিধা পাচ্ছে চীন।
চীন সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে আমদানীকৃত এলএনজি পুনরায় ইউরোপ ও
এশিয়ার অন্যান্য দেশে বিক্রি না করার নির্দেশনা দিয়েছে। উদ্দেশ্য স্থানীয় বাজারে
পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শীতে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা পূরণ করা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের চাহিদার কারণে আগামী
মাসগুলোয় আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত বছরের শীতের তুলনায় কমবে। কারণ চলতি
বছর সংকটের মধ্যে রয়েছে এলএনজির বৈশ্বিক বাজার। আগামী বছর সংকট আরো তীব্র আকার
ধারণ করতে পারে। ফলে বাজারদরও থাকবে ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি বিকল্প
জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এশিয়ার অন্য দুই শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এসব
দেশ স্পট মার্কেটে আগামী মাসগুলোয় অনেকটাই নিষ্ক্রিয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কারণ উভয় দেশেই বর্তমানে এলএনজির মজুদ ঊর্ধ্বমুখী।










