বিশ্বের কনটেইনার রফতানি বাজারে চীনের হিস্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। চীনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জেন্স এসকেলুন্ড সম্প্রতি এ তথ্য জানান। ২০৩০ সালের কাছাকাছি সময় বৈশ্বিক কনটেইনার রফতানিতে চীনের হিস্যা ৪০ শতাংশের কাছাকাছি যেতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই সে পর্যায়ে পৌঁছেছে চীন। খবর এফটি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্সের তথ্যানুযায়ী, গত নয় মাসে চীনের হিস্যা বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা আগের ধারণার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীনের বাড়তে থাকা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিয়ে কয়েক বছর ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র। আশঙ্কা, তুলনামূলক কম দামে চীনা পণ্যের বাড়তি সরবরাহ অন্য দেশগুলোর স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি করতে পারে। এতে শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৮০৫ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি গত বছরের রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপের সঙ্গে চীনের কনটেইনার বাণিজ্যের ব্যবধানও বেড়েছে। এসকেলুন্ডের হিসাবে, ২০১৯ সালে, অর্থাৎ কভিড-১৯ মহামারীর আগে ইউরোপ চীনে যে একটি কনটেইনার পণ্য রফতানি করত, তার বিপরীতে চীন ইউরোপে পাঠাত ২ দশমিক ৫টি কনটেইনার। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে একটির বিপরীতে ছয়টিতে। অর্থাৎ ইউরোপের তুলনায় চীনের রফতানি বেড়েছে।
ইইউর অভিযোগ, চীন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে উৎপাদন ও শিল্প খাতে বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করছে। দেশটির আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না।
এর একটি চিত্র পাওয়া যায় খুচরা বিক্রির তথ্যে। গত আগস্টে চীনের খুচরা বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির শিল্প উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ বাজারের তুলনায় উৎপাদন অনেক দ্রুত বাড়ছে।
চীনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স সম্প্রতি ৩৯৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, আর্থিক সেবা ও জাহাজ পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
চেম্বারের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য এখনো সবচেয়ে বড় একক কারণ। গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রতিদিন গড়ে ১ বিলিয়ন ইউরোয় পৌঁছেছিল।










