এশিয়ার শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোয় চালের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। সর্বশেষ সপ্তাহে ভারতে রুপির দরপতনে খাদ্যপণ্যটির দাম আট মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমেছে। কমতির দিকে রয়েছে থাই চালের দামও। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও রয়টার্স।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৩৭৪-৩৭৯ ডলারে বিক্রি হয়। এর আগের সপ্তাহে খাদ্যপণ্যটি টনপ্রতি ৩৭৫-৩৮০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। গত আট মাসের মধ্যে এটাই ছিল ভারতের বাজারে চালের সর্বোচ্চ দাম। সেই হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতের বাজারে প্রতি টন চালের দাম কমেছে ১ ডলার।
ভারতীয় ট্রেডাররা জানান, আফ্রিকার দেশগুলোয় ভারতীয় চালের রফতানি চাহিদা ভালোই রয়েছে। আগামীতে এশিয়ার দেশগুলোয় খাদ্যপণ্যটির রফতানি চাহিদা বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান লকডাউনের মধ্যে পরিবহন সংকট থাকায় সরবরাহ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন দেশটিতে রফতানিযোগ্য চালের দাম আগের তুলনায় কমিয়ে দিয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ডেও। দেশটির বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫৩৮ ডলারে বিক্রি হয়। এর আগের সপ্তাহে খাদ্যপণ্যটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ৫৫৬ ডলারে।
ব্যাংককভিত্তিক ট্রেডাররা জানান, দেশজুড়ে খরার পরও চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে সেই তুলনায় নতুন রফতানি চুক্তি হচ্ছে না। অনেক রফতানিকারক আশা করেছিলেন, মহামারীর কারণে অভ্যন্তরীণ মজুদ বাড়াতে ভিয়েতনাম সাময়িক রফতানি বন্ধ করায় থাইল্যান্ড থেকে চাল রফতানি বাড়তে পারে। তবে বাস্তবে সে রকম হয়নি। এ কারণে থাই চালের দামে পতন দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল রফতানিকারক ভিয়েতনাম চাল রফতানিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে। এমনকি দেশটির সরকার চলতি মাসের জন্য চাল রফতানির কোটা চার লাখ টন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও এর পরও দেশটির রফতানিকারকরা নতুন কোনো রফতানি চুক্তি পাননি। সর্বশেষ সপ্তাহে ভিয়েতনামের বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৪৪০-৪৫০ ডলারে বিক্রি হয়।
উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সময় অভ্যন্তরীণ খাদ্য শৃঙ্খল রক্ষা ও জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল রফতানিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছিল ভিয়েতনাম। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে এরই মধ্যে তা তুলে নিয়েছে দেশটি।









