কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাপ উৎপাদন এবং পরিবহনের কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। এ কারণে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা নতুন রেকর্ড গড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)। খবর রয়টার্স।

সংস্থাটির গত মঙ্গলবার প্রকাশিত স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল ৪ হাজার ১৯৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৬ সালে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে ৪ হাজার ২৮৮ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টায় দাঁড়াতে পারে। ২০২৭ সালে তা আরো বেড়ে ৪ হাজার ৩৫৬ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা হতে পারে।

এআই ও ক্রিপ্টোকারেন্সির কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারগুলো বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাপ উৎপাদন এবং পরিবহনে জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে সামগ্রিক চাহিদাও বাড়ছে।

বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে দামের ওপর। ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৫২ ডলারে উঠতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় এ দাম ১১ শতাংশ বেশি। শীতকালীন ঝড় এবং গ্রীষ্মে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে।

তবে অঞ্চলভেদে দামের পরিবর্তন এক রকম হবে না। মধ্য-আটলান্টিক ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের পিজেএম বিদ্যুৎ বাজারে দাম ৪১ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মিড-কলাম্বিয়া এলাকায় দাম ২৩ শতাংশ কমতে পারে।

২০২৬ সালে আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১০০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছতে পারে। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টায়। শিল্প খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার হতে পারে ১০ লাখ ৫৫ হাজার কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ধরনেও পরিবর্তন আসবে। ইআইএর পূর্বাভাস বলছে, কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের অংশ ২০২৫ সালের ১৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ১৬ এবং ২০২৭ সালে ১৫ শতাংশে নামবে। প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ৪০ শতাংশ থাকবে। ২০২৭ সালে তা কমে ৩৯ শতাংশ হতে পারে।

অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান বাড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ উৎসের অংশ ২০২৫ সালের প্রায় ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২৫ এবং ২০২৭ সালে ২৭ শতাংশ হতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুতের অংশ তিন বছরই ১৮ শতাংশে স্থির থাকতে পারে।

এদিকে ২০২৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার দৈনিক ৩ হাজার ৭০০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছতে পারে। শিল্প খাতে এর ব্যবহারও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ইআইএ। এসব পূর্বাভাসে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দাম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।